ম্যাচ শেষে পাকিস্তানের অধিনায়ক মহম্মদ রিজ়ওয়ান হতাশ মুখে গ্লাভস খুলছেন। তাকিয়ে রয়েছেন বিরাট কোহলির দিকে। রানে না থাকা ব্যাটার তাঁদের বিরুদ্ধে প্রায় একাই ম্যাচ জিতিয়ে দিলেন। উইকেটের পিছন থেকে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখলেন রিজ়ওয়ান। হয়তো এই প্রতিযোগিতা শেষে কোপ পড়বে তাঁর উপর। যেমন এক দিনের বিশ্বকাপে হারের পর সরতে হয়েছিল বাবর আজ়মকে। এটাই তো পাকিস্তান ক্রিকেটের পরিচিত ছবি।
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক সিরিজ় বন্ধ বহু দিন। পাকিস্তানের মাটিতে খেলতেও যান না রোহিত শর্মারা। দুই দেশের লড়াই শুধু আইসিসি প্রতিযোগিতাতেই দেখা যায়। যে ম্যাচের দিকে নজর থাকে সকলের। কিন্তু পাকিস্তানের ক্রিকেটের মান যে ভাবে কমছে, তাতে আগামী দিনে এই ম্যাচে ক্রিকেটীয় লড়াই কতটা দেখা যাবে, সেটা সন্দেহের।
ইমরান খানের নেতৃত্বে ১৯৯২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল পাকিস্তান। ২০০৯ সালে জিতেছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ২০১৭ সালে জিতেছিল চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি। সব ধরনের আইসিসি ট্রফি রয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের সদর দফতরে। কিন্তু এখনকার পাকিস্তান দল কি আদৌ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মানসিকতা নিয়ে খেলে? ম্যাচ শেষে রিজ়ওয়ান বলেন, “আমরা টস জিতলেও সেটার সুবিধা নিতে পারিনি। ওদের বোলারেরা খুব ভাল বল করে। আমি আর সাউদ শাকিল চেষ্টা করছিলাম শেষ পর্যন্ত ব্যাট করার। কিন্তু খারাপ শট নির্বাচন আমাদের শেষ করে দিল। আমাদের চাপে ফেলে দিল ওরা। দলের সব বিভাগ একসঙ্গে খেলতে না পারলে ব্যর্থতা আসবেই। আমরা চেষ্টা করেছিলাম, কিন্তু পারলাম না। আমাদের ফিল্ডিংয়ে উন্নতি করতে হবে। অনেক ভুল করেছি আমরা এই ম্যাচে।”
আরও পড়ুন:
পাকিস্তান দলের মানসিকতা দেখলে মনে হয় না তারা জেতার জন্য মরিয়া। ম্যাচের আগের দিন অনুশীলন করেননি বাবর। গোটা পাকিস্তান দল শনিবার সন্ধ্যায় অনুশীলন করলেও অনুপস্থিত ছিলেন তিনি। যা নজর এড়ায়নি সংবাদমাধ্যমের। শুরু হয়ে গিয়েছিল জল্পনা। তা হলে কি ফর্মে না থাকা বাবরকে বাদ দিয়ে ভারতের বিরুদ্ধে মাঠে নামবেন রিজ়ওয়ানেরা? অনুশীলনের পর সরাসরি এই প্রশ্ন করা হয়েছিল পাকিস্তানের অন্তর্বর্তী কোচ আকিব জাভেদকে। বাবরের অনুশীলন না করা নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও কারণ জানাননি পাকিস্তানের কোচ। তিনি শুধু বলেছেন, “বাবর বিশ্রাম নিয়েছে।” ফর্মে না থাকা এক জন ক্রিকেটার ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের আগে বিশ্রাম নিয়েছেন? এই দৃশ্য খুব পরিচিত নয়। কিন্তু পাকিস্তানের বাবর সেটাই করলেন। গত ম্যাচে নিউ জ়িল্যান্ডের বিরুদ্ধে তাঁর মন্থর ব্যাটিংয়ের জন্য হারতে হয়েছিল পাকিস্তানকে। তিনিই অনুশীলন করেননি ভারতের বিরুদ্ধে খেলতে নামার আগে। কোনও দল জেতার জন্য মরিয়া হয়ে উঠলে এমন কাণ্ড করা যায় না।
পাকিস্তান দলের মধ্যে নানা ধরনের গণ্ডগোল রয়েছে। চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য তিন বার দল বাছা হয়েছিল তাদের। জানা গিয়েছে, দল নির্বাচনের পর তা পাঠানো হয়েছিল পিসিবি প্রধান মহসিন নকভির কাছে। তিনি সেই তালিকা নির্বাচকদের কাছে ফেরত পাঠিয়ে কড়া বার্তা দিয়ে বলেছিলেন, সেরা দলই যেন বেছে নেওয়া হয়। নির্বাচিত ক্রিকেটারদের তালিকা আরও এক বার পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তৃতীয় বার তালিকা পাঠানোর পর তিনি মঞ্জুর করেছেন বলে জানা গিয়েছে। এমন ঘটনা নজিরবিহীন। দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে ক্রিকেটারদের মান নয়, স্বজনপোষণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছিল বলে অভিযোগ।

গ্রাফিক: আনন্দবাজার অনলাইন।
পাক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, শক্ত হাতে বোর্ড পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর নকভি। তাই কোনও অন্যায় প্রশ্রয় দিতে চাইছেন না। দল নিয়ে যাতে কোনও বিতর্ক না হয়, তাই নির্বাচকদের কড়া নির্দেশ পাঠাচ্ছেন। তাঁর অনুমতি ছাড়া কোনও সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে না। তিনি নিজের পছন্দের আমলা এবং সরকারি আধিকারিকদের এনে বোর্ড চালাচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে।
রবিবারের ম্যাচের আগে পাক প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ় শরিফ বলেছিলেন, “একটা দিন আসবে যখন আমরা ভারতকে পিছনে ফেলে দেব। না পারলে আমার নাম শাহবাজ় শরিফ নয়।’’ তাঁকে আরও বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘আমরা পাকিস্তানকে দারুণ জায়গায় পৌঁছে দেব। ভারতের থেকেও এগিয়ে যাব।’’ তাঁর এই মন্তব্য ভারত-পাকিস্তান ক্রিকেট ম্যাচ নিয়ে নয়। কিন্তু যে দেশের প্রধানমন্ত্রী স্বপ্ন দেখেন ভারতকে পিছনে ফেলে দেবেন, সেই দেশের ক্রিকেটারেরা এত সহজে ম্যাচ হেরে মাঠ ছাড়েন কী ভাবে? জেতার জন্য কোনও মরিয়া ভাব দেখা যায় না কেন?