গরমের ছুটির আগেই জলপাইগুড়িতে কলকাতা হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন হতে পারে। স্থায়ী ভবনের সামনের রাস্তা, প্রবেশের পথ এবং বাগানের কাজ শেষ না হলে গরমের ছুটির পরে তার উদ্বোধন করা হবে। খুব দেরি হলে জুন মাসে উদ্বোধন হতে পারে। দ্রুত উদ্বোধন হলে এপ্রিলের শেষেও জলপাইগুড়ির গোশালা মোড়ে প্রায় ৫৩ একর জমিতে গড়ে ওঠা স্থায়ী ভবনের উদ্বোধন করা হতে পারে। শনিবার হাই কোর্টের সার্কিট বেঞ্চের নতুন ভবনে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থার পরিকাঠামোর মহড়া হল। হাই কোর্টের নতুন ভবন থেকে ‘ভার্চুয়াল’ শুনানি থেকে শুরু করে ভিডিয়ো বৈঠক, শুনানির সরাসরি সম্প্রচার থেকে বৈদ্যুতিন যাবতীয় পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হয়েছে। এ দিনের মহড়ায় বিচারপতিরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ দিন সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের কাজ পরিদর্শন করেন হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু। সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী পরিকাঠামো সংক্রান্ত হাই কোর্টের কমিটির চেয়ারম্যান, বিচারপতি শম্পা সরকার এ দিন বলেছেন, “কাজ খুব ভাল এগোচ্ছে। এ বছরেই সার্কিট বেঞ্চের কাজ শুরু হবে। শীঘ্রই শুরু হবে। একটি ভবনে (অস্থায়ী ভবনে) আদালত চলছে। সেখান থেকে তা নতুন ভবনে নিয়ে আসা হবে। এ দিন আইটি মহড়া হল।” সূত্রের খবর, বিচারপতিদের প্রতিনিধি দল ফিরে গিয়ে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে রিপোর্ট দেবেন। তার পরে প্রধান বিচারপতি পরিকাঠামো দেখতে আসবেন।
স্থায়ী ভবনের সামনে দিয়েই ইস্ট-ওয়েস্ট মহাসড়ক গিয়েছে। হাই কোর্টের বেঞ্চের স্থায়ী ভবনে প্রবেশের জন্য জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে একটি ‘সার্ভিস রোড’ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সেই কাজ দ্রুত শেষ করতে এ দিন নির্দেশ দিয়েছেন বিচারপতিরা। ভবনের সীমানা পাঁচিলও তৈরি হচ্ছে। রাস্তা এবং পাঁচিল তৈরির কাজ শেষ না হলে বেঞ্চের উদ্বোধন করা সম্ভব নয়। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন, “যে ভাবে কাজ এগোচ্ছে, তা প্রত্যাশারা থেকেও বেশি। এর পরে প্রধান বিচারপতি চূড়ান্ত পরিদর্শনে আসবেন।” কবে নাগাদ কাজ শেষ করতে হবে, তার একটি সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন বিচারপতিরা। বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসু বলেন, “সময়সীমা আছে, তবে সেটা আমরা বলছি না। স্থায়ী ভবন তৈরি, আমরাও তৈরি।”
প্রাথমিক ভাবে চারটি আদালত কক্ষ নিয়ে সার্কিট বেঞ্চের স্থায়ী ভবনের কাজ শুরু হবে। তার প্রয়োজনীয় আসবাবও স্থায়ী ভবনে ঢুকতে
শুরু করেছে।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)