কোন বিভাগে রোগী দেখার দায়িত্বে কোন চিকিৎসকের, তা জানাতে বসেছিল ডিজিটাল ডিস-প্লে বোর্ড। কিন্তু, সেই বোর্ডেই পাওয়া যাচ্ছে ভুল তথ্য! শুক্রবারের চিকিৎসকদের তালিকা অপরিবর্তিত অবস্থায় ডিসপ্লে বোর্ডে রয়ে গিয়েছে শনিবার থেকে সোমবার—তিন দিন! ঘটনাস্থল, কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল। ফলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের গাফিলতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
৩০০ শয্যার কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের উপর কাঁথি মহকুমার পাশাপাশি পর্যটন কেন্দ্র দিঘা এবং পার্শ্ববর্তী এগরা মহকুমার অধিকাংশ বাসিন্দা নির্ভরশীল। হাসপাতালে কবে কোন বিভাগে কোন চিকিৎসক দায়িত্বে রয়েছেন, তা যাতে রোগীর বাড়ির লোক সহজে জানতে পারেন তার জন্য সম্প্রতি হাসপাতালে একটি ডিজিটাল ডিসপ্লে বোর্ড লাগানো হয় জরুরি বিভাগের সামনে। চিকিৎসকদের নাম এবং ছবি ফুটে ওঠে ডিসপ্লে বোর্ডে।
অভিযোগ, গত ২১ ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসপ্লে বোর্ডের তথ্য অপরিবর্তিত রয়েছে। শুক্রবার জরুরি বিভাগ, মেডিসিন, গাইনোকোলজি, সার্জারি, পেডিয়াট্রিক্স বিভাগে পাঁচ জন চিকিৎসক দায়িত্বে ছিলেন। দিন বদলালেও চিকিৎসকদের ওই তালিকা বোর্ডে সোমবার পর্যন্ত বদলায়নি। শেখ আখতার আলি নামে দারুয়া এলাকার এক বাসিন্দা বলেন,"ভাইঝিকে নিয়ে সোমবার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। কিন্তু গিয়ে দেখি, ডাক্তারবাবুদের শুক্রবারের তালিকা বদলায়নি এ দিনও।" পেটের অসুখে কয়েক দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি কাঁথির পিছাবনির ননীগোপাল মাইতি। তাঁর ছেলের কথায়,"কবে কোন ডাক্তার রোগী দেখবেন জানতে ডিসপ্লে বোর্ড দেখতে গিয়েছিলাম। কিন্তু জরুরি বিভাগ থেকে জানাল, বোর্ডে ভুল তালিকা দেখানো হচ্ছে।’’
যদিও ভুলে ভরা ডিসপ্লে বোর্ড সম্পর্কে কিছুই জানা নেই বলে দাবি করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কাঁথি মহকুমা হাসপাতালের সুপার অরূপ রতন করন বলেন,"মেডিকেল অফিসারদের সম্পর্কে ওই বোর্ডে তথ্য দেওয়া থাকে। যদি গত দিনের তথ্য আজও বোর্ডে থেকে থাকে তবে বোর্ড খারাপ হয়ে গিয়েছে বলে ধরে নিতে হয়। দ্রুত ওই বোর্ড ঠিক করার জন্য হাসপাতালের প্রযুক্তি বিভাগের কর্মীদের নির্দেশ দিচ্ছি।’’
দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রয়েছেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলা শাসক পূর্ণেন্দু মাজি। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের কাজকর্মে রোগী কল্যাণ সমিতির নিয়মিত নজরদারির অভাব রয়েছে। হাসপাতাল পরিচালনায় গা ছাড়া মনোভাব দেখাচ্ছেন কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে কাঁথির মহকুমা শাসক শৌভিক ভট্টাচার্য বলেন," বিষয়টি জানা ছিল না। খোঁজ নিয়ে দেখব।’’
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)