সুড়ঙ্গের ছাদ থেকে জল চুঁইয়ে পড়ছিল। ভিতরে যে বিপদ অপেক্ষা করে আছে, জানতেন শ্রমিকেরা। তা সত্ত্বেও সুড়ঙ্গে ঢুকতে হয়েছিল তাঁদের। তেলঙ্গানার শ্রীশৈলম লেফ্ট ব্যাঙ্ক জলাধারের (এসএলবিসি) পিছনের দিকের সুড়ঙ্গ থেকে কোনওমতে বেরিয়ে এমনটাই জানালেন শ্রমিক সঞ্জয় সাহ। তাঁর আট জন সহকর্মী সুড়ঙ্গের ভিতরে আটকে পড়েছেন। তাঁদের উদ্ধার করা যায়নি ৪৮ ঘণ্টা পরেও। ঠিক কী ঘটেছিল সুড়ঙ্গের ভিতরে, বর্ণনা করেছেন সঞ্জয়। তিনি জানিয়েছেন, পেটের দায়ে তাঁদের সকলকে এই কাজ করতে হয়েছে।
সঞ্জয় ওয়েল্ডিংয়ের কাজ করেন। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রিপোর্ট অনুযায়ী, তাঁর বক্তব্য, ‘‘আমাদের মতো ওই শ্রমিকেরাও জানতেন, এটা খুব বিপজ্জনক কাজ। কিন্তু এখান থেকে যে টাকা রোজগার হয়, তা দিয়েই আমাদের পেট চলে। জল চুঁইয়ে পড়ার ছোটখাটো ঘটনা আগেও ঘটেছে। তা নিয়ে আগেও কথা হয়েছে। কিন্তু এটা বাধ্যতামূলক কাজ ছিল। আমাদের সব জেনেশুনেই ভিতরে ঢুকতে হয়েছিল।’’
আরও পড়ুন:
শনিবার সকালে ওই নির্মীয়মাণ সুড়ঙ্গটির একাংশ আচমকা ভেঙে পড়ে। সঞ্জয় জানান, তাঁরা মোট ৫০ জন সুড়ঙ্গে কাজের জন্য ঢুকেছিলেন। এক ঘণ্টা ধরে দীর্ঘ প্রায় ১৩ কিলোমিটার পথ হাঁটেন তাঁরা। সেচের কাজে ব্যবহার করার জন্য তৈরি ওই সুড়ঙ্গটি মোট ৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ। কিন্তু ১৪ কিলোমিটারের পয়েন্টের কাছে পৌঁছোতেই জল বাড়তে থাকে। সুড়ঙ্গের ছাদ থেকে অল্প অল্প মাটি খসে পড়তে থাকে। তা দেখে বিপদ আঁচ করে সকলে বাইরের দিকে ছুটতে শুরু করেছিলেন। বেজে উঠেছিল ‘অ্যালার্ম’। বাইরে পৌঁছোনোর পর তাঁরা জানতে পারেন, আট জন সেখান থেকে বেরোতে পারেননি। তার পরেই শুরু হয় উদ্ধারকাজ।
সোমবার সকালে তেলঙ্গানার মন্ত্রী জুপল্লি কৃষ্ণ রাও জানিয়েছেন, সুড়ঙ্গে যাঁরা আটকে পড়েছেন, ৪৮ ঘণ্টা পরেও তাঁদের বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ। জমা জল এবং কাদার জন্য উদ্ধারকাজে সমস্যা হচ্ছে। তেলঙ্গানায় রাজ্য ও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সঙ্গে কাজ করছে সেনাবাহিনীও। মন্ত্রী জানান, সুড়ঙ্গের ভিতরে কাদার স্তর অনেকটা উঁচু হয়ে গিয়েছে। এর ফলে সেখানে হাঁটা প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ভিতর থেকে কোনও শ্রমিকের সাড়াও মেলেনি।