রহস্যজনক ভাবে মৃত্যু হল অস্কারজয়ী হলিউড অভিনেতা জিন হ্যাকম্যানের। নিউ মেক্সিকোর সান্টা ফে এলাকায় একটি আবাসনের কটেজে বুধবার জিন, তাঁর স্ত্রী এবং পোষা কুকুরকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। কখন, কী ভাবে ওঁরা মারা গেলেন, সেটা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্ত চলছে। তবে তদন্তের প্রাথমিক গতিপ্রকৃতি দেখে এটা খুনখারাপির ঘটনা মনে হচ্ছে না বলেই জানিয়েছে প্রশাসন। সে ক্ষেত্রে ওঁরা সপরিবার আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছেন কি না, জল্পনা চলছে তাই নিয়েও।
কাউন্টি প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, বুধবার বিকেলে শেরিফের অফিস থেকে কর্মীরা সান্টা ফে-র আবাসনে যান। কোনও অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবর দিয়ে তাঁদের কেউ ডেকে পাঠিয়েছিল, না কি ওঁরা নিজেরাই রুটিন খোঁজখবর নিতে ওখানে গিয়েছিলেন, সেটা জানা যায়নি। তবে প্রাথমিক ভাবে ওঁরা শেরিফের অফিসে জানান, নবতিপর এক বৃদ্ধ এবং ষাটের কোঠায় এক মহিলার দেহ পাওয়া গিয়েছে। তার পর বোঝা যায়, দেহ দু’টি অভিনেতা জিন এবং ওঁর পিয়ানোবাদিকা স্ত্রী বেটসি আরাকাওয়া-র। জিনের বয়স হয়েছিল ৯৫, বেটসির ৬৩। সান্টা ফে কাউন্টির শেরিফ আদান মেনডোজ়া নিজেই পরে বলেন যে, ‘‘এই ঘটনার পিছনে কারও হাত আছে বলে মনে হচ্ছে না। পড়শিদেরও কোনও বিপদের আশঙ্কা আছে বলে মনে হয় না। তদন্ত প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে।’’
আশির দশক থেকে সান্টা ফে-তে থাকতে শুরু করেন জিন। ১৯৯১ সালে বিয়ে করেন বেটসিকে। বেটসি তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী। প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে জিনের তিন সন্তান রয়েছে। হলিউডের একেবারে প্রথম সারির অভিনেতা জিন খুব বেশি প্রচারমুখী ছিলেন না কোনও দিনই। তবে গত বছরে ওঁদের দু’জনকে একসঙ্গে একটি মধ্যাহ্নভোজের আসরে দেখা গিয়েছিল। দু’জনকে যথেষ্ট খুশি এবং সুস্থই দেখিয়েছিল। কী কারণে ওঁরা হঠাৎ পোষ্য সমেত এমন অদ্ভুত ভাবে মারা গেলেন, কেউই তার কোনও আন্দাজ এখনও পর্যন্ত দিতে পারেননি। তবে ২০০৯ সালে একটি সাক্ষাৎকারে জিনকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘‘একটা বয়সে এসে মৃত্যুভয় খুব স্বাভাবিক। আমি শুধু এটা নিশ্চিত করতে চাই, আমার স্ত্রী
এবং পরিবারের দেখভাল যেন হয়। এ ছাড়া আমার আর খুব একটা ভয়-ভাবনা নেই।’’
প্রায় চল্লিশ বছরের অভিনয় জীবন। আই নেভার স্যাং ফর মাই ফাদার, দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন, দ্য কনভারসেশন, সুপারম্যান, আ ব্রিজ টু ফার, মিসিসিপি বার্নিং, পসেইডন অ্যাডভেঞ্চার, আনফরগিভেন, নো ওয়ে আউট, — জিনের স্মরণীয় ছবির সংখ্যা অনেক। ‘দ্য ফ্রেঞ্চ কানেকশন’ এবং ‘আনফরগিভেন’-এর জন্য দু’দুবার অস্কার জয়। মনোনয়ন আরও বেশ কয়েক বার। অথচ মেরিন বাহিনীতে কিছু দিন কাজ করার পরে পঞ্চাশের দশকে যখন অভিনয় শেখার দিকে মন গেল, জিনকে খুব লম্বা দৌড়ের ঘোড়া বলে ভাবা হয়নি। ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি রঙ্গমঞ্চ পাসাদেনা প্লেহাউসে তখন যোগ দিয়েছেন জিন আর ডাস্টিন হফম্যান। বন্ধুত্বও জমে উঠেছে। কিন্তু ওই দু’জনেরই সফল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে কম বলে অভ্যন্তরীণ ভোটে মত দিয়েছিলেন মঞ্চের অন্যরা। পরবর্তী কালে দু’জনেই হিসেব উল্টে দেন। মঞ্চ আর টেলিভিশনে ছোটখাটো অভিনয় করে চলার পরে ১৯৬৪ সালে ‘লিলিথ’ ছবিতে জিনের প্রথম বড় পর্দায় অভিনয় ওয়ারেন বেটির সঙ্গে। শেষ ছবি ২০০৪-এ, ‘ওয়েলকাম টু মুসপোর্ট’। ২০০৮-এ জানিয়ে দিলেন, আর অভিনয় করতে চান না। তথ্যচিত্রে ভয়েসওভারের কাজ অবশ্য করেছেন। তবে অনেক বেশি করে মনে দিয়েছিলেন লেখালেখিতে। চিত্রপরিচালক ফ্রান্সিস ফোর্ড কপোলা এ দিন ‘দ্য কনভারসেশন’-এর সেটে ওঁদের একটা ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, ‘‘আমি জিনের মৃত্যুতে শোক যেমন অনুভব করছি, সেই সঙ্গে ওর উপস্থিতি এবং অবদানকে উদ্যাপনও করছি।’’
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)