আসন্ন রমজান মাস এবং গরমের মরসুমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের (এসি) তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখার নির্দেশ দিল মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, নির্দেশ উপেক্ষা করা হলে বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা এবং প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ করা হতে পারে।
গত সপ্তাহে সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছিল, বাংলাদেশকে বিদ্যুৎ শুল্কে ছাড় দিতে অসম্মত হয়েছে শিল্পপতি গৌতম আদানির গোষ্ঠী। এ বিষয়ে ইউনূস সরকারের অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে তারা। ঘটনাচক্রে, তার পরেই বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় হল অন্তর্বর্তী সরকার। প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের চুক্তি অনুযায়ী ঝাড়খণ্ডের গোড্ডায় তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করে আদানি গোষ্ঠী। সেখানে দু’টি ইউনিট রয়েছে। এক একটি ইউনিটের ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে।
আরও পড়ুন:
কিন্তু বিদ্যুতের বকেয়া বিলের সমস্যা এবং শীতের মরসুমে চাহিদা কম থাকার কারণে গত অক্টোবরে আদানি গোষ্ঠীর থেকে বিদ্যুৎ কেনা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছিল ইউনূস সরকার। রয়টার্সে প্রকাশিত খবরে দাবি, ফেব্রুয়ারিতে বকেয়া বিলে কিছু ছাড় দিলে আদানি গোষ্ঠীর থেকে আবার ১৬০০ ইউনিট বিদ্যুৎ কেনা হবে বলে বার্তা পাঠায় অন্তর্বর্তী সরকার। কিন্তু পত্রপাঠ সেই প্রস্তাব খারিজ করে দেয় আদানিরা!
এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতেই যে বাতানুকূল যন্ত্র ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আনা হচ্ছে, তা স্পষ্ট করে দিয়ে ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা ফাওজুল বলেন, ‘‘এর ফলে দু’থেকে তিন হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা যাবে।’’ সেই সঙ্গে হুঁশিয়ারির বিষয়টি নিয়মিত নজরদারি করবে বিদ্যুৎ বিভাগের বিশেষ দল। যদি দেখা যায় ‘অনুরোধ’ উপেক্ষা করা হয়েছে, তা হলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এমনকি বিদ্যুতের সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হতে পারে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, শীতাতপনিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উপদেষ্টা পরিষদের সকলের কাছে চিঠি দেওয়া হচ্ছে। সচিবালয়ের বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদের সচিবকে এ চিঠি দেওয়া হবে। আর মানুষের বাসাবাড়ির বিষয়ে সাংবাদিকদের মাধ্যমে উপদেষ্টা এ অনুরোধ জানান।