ইমানুয়েল মাক্রঁ।
ঝোড়ো নির্বাচনী প্রচার, টিভি বিতর্কে কাদা ছোড়াছুড়ি, শেষ-লগ্নে হ্যাকিংয়ের অভিযোগ— সব শেষ। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের চূড়ান্ত লড়াইয়ে জিতে গেলেন ৩৯ বছর বয়সি মধ্যপন্থী নেতা ইমানুয়েল মাক্রঁ। রবিবার রাত আটটার সময়ে ভোট দেওয়া শেষ হয়। তার কিছু ক্ষণের মধ্যেই জানা যায়, অতি দক্ষিণ প্রার্থী মারিন ল্য পেনকে বিপুল ভোটে হারিয়ে দিচ্ছেন মাক্রঁ। তিনি েপয়েছেন ৬৫.৫ শতাংশ ভোট, আর ল্য পেন মাত্র ৩৪.৫ শতাংশ। ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যে ল্য তুকে এক জনসভায় মাক্রঁ বলেন, ‘‘এই জয় বলে দিচ্ছে, এ দেশের মানুষ এখনও আশাবাদী।’’ ভোটপ্রচারে বারবার এই ‘আশা’র কথাই বলেছিলেন তিনি। প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ‘‘নানা প্রতিবন্ধকতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশ। কিন্তু আমরা সেই প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠতে পারবো। হ্যাঁ পারবোই।’’
বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, এত বিপুল ব্যবধানে জিতলেও মাক্রঁকে যথেষ্ট কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে তিক্ততার বিভাজনে ভরা একটি দেশকে। ভয়ঙ্কর বেকারত্ব, স্তব্ধ অর্থনীতি এবং নিরাপত্তার অভাব তাড়া করে বেড়াচ্ছে ফ্রান্সকে। তা ছাড়া, অভিবাসী সঙ্কট তো রয়েছেই। এগুলোই ভাবী প্রেসিডেন্টের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
দু’সপ্তাহ আগে প্রথম রাউন্ডে ফ্রান্সের সব ‘প্রধান’ রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের ফিরিয়ে দিয়েছিল জনতা। ২৪ শতাংশ ভোটে সামনের সারিতে উঠে এসেছেন ইমানুয়েল মাক্রঁ। এবং ২১% ভোটে এগিয়ে আসেন মারিন ল্য পেন।
আরও পড়ুন:বোকো হারাম মুক্তি দিল ৮২ ছাত্রীকে
আশায়: ভোট দিচ্ছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই প্রার্থী ইমানুয়েল মাক্রঁ ও মারিন ল্য পেন। ছবি: এএফপি।
তবে তরুণ নেতা বনাম পো়ড় খাওয়া নেত্রীর লড়াইয়েও কিছু কম বৈচিত্র ছিল না। মারকাটারি টিভি বিতর্কে দুই প্রার্থী যে ভাবে পরস্পরকে আক্রমণ করেছেন, তা-ও ফ্রান্সের নির্বাচনের ইতিহাসে নজিরবিহীন। ল্য পেনের সঙ্গে মাক্রঁ-র বিতণ্ডা টিভি-তে দেখে অনেকেরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের বিতর্কের ছবি মনে পড়েছে। প্রসঙ্গত, মাক্রঁকে প্রকাশ্যেই সমর্থন জানিয়েছিলেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ওবামা। আর ল্য পেনের পাশে ছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ইমানুয়েল মাক্রঁ
মারিন ল্য পেন
• বয়স: ৩৯
• নির্দল প্রার্থী (২০০৯ পর্যন্ত ফ্রাঁসোয়া ওলাঁদের সোশ্যালিস্ট পার্টির সদস্য)
• পাশে: জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল, প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা
• রাজনীতিতে আসার আগে: কোটিপতি ইনভেস্টমেন্ট ব্যাঙ্কার
• স্ত্রী: ব্রিজিত মারিয়া-ক্লদ মাকরঁ (বয়স ৬৪)
• সন্তান: নিজের সন্তান নেই, স্ত্রীর তিন সন্তানকে দত্তক নিয়েছেন
• বয়স: ৪৮
• দল: ন্যাশনাল ফ্রন্ট
• পাশে: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
• রাজনীতিতে আসার আগে: আইনজীবী
• প্রথম স্বামী: ফ্রাঙ্ক শফরয় (১৯৯৫-এ বিয়ে, ২০০০-এ বিবাহবিচ্ছেদ)
• দ্বিতীয় স্বামী: এরিক লোরিও (২০০২-এ বিয়ে, ২০০৬-এ বিবাহবিচ্ছেদে)
• বর্তমান লিভ-ইন পার্টনার: লুই আলিও (বয়স ৪৭)
• সন্তান: তিন জন
আমেরিকার মতোই শেষ বেলার হ্যাকিং বিতর্ক নাটকীয়তা আরও বাড়িয়েছে। গত কাল মাক্রঁ-র প্রচার শিবির জানায়, তাদের ই-মেল ও সার্ভার হ্যাক করে ৯ গিগাবাইটেরও বেশি স্পর্শকাতর তথ্য ফাঁস করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে হাজার হাজার ই-মেল, ছবি-সহ গুরুত্বপূর্ণ ফাইল রয়েছে। সরাসরি কাউকে দায়ী না করলেও ল্য পেন শিবির দৌড়ে পিছিয়ে যাওয়ায় এমন ঘটনা ঘটেছে বলে মনে করছেন তরুণ নেতা মাক্রঁ।
মাক্রঁ-র জয়কে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জয় বলেই মনে করছেন সকলে। তাই স্বস্তি ব্রাসেলসে। জানা গিয়েছে, কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর অন্যতম প্রধান সমর্থক জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেলের সঙ্গে দেখা করবেন মাক্রঁ। ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে দেখা করতে যাবেন ব্রাসেলসেও।
সকালে ফ্রান্সের উত্তরে ল্য তুকে শহরে স্ত্রী ব্রিজিত মারিয়া ক্লঁদের সঙ্গে ভোট দিয়েছেন মাক্রঁ। আর উত্তর ফ্রান্সের শহর এন্যাঁ-বুমঁ-তে সঙ্গী লুই আলিওকে নিয়ে ভোট দিতে আসেন মারিন ল্য পেন।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy