রাজ্যে কোনও বেআইনি দখলদারি বরদাস্ত করা হবে না! বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে এমনই জানালেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। শুধু তা-ই নয়, কী ভাবে জমি পাওয়া যাবে, তা-ও জানান তিনি।
বেআইনি দখল নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় এ হেন দখল নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কোথাও বেআইনি ভাবে জমি দখল করে প্রোমোটিংয়ের অভিযোগ, কোথাও আবার হকারদের ‘জবরদখল’! মাস কয়েক ধরে বহুতল হেলে বা ভেঙে পড়ার ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পরই বেআইনি দখলদারি নিয়ে রাজ্য সরকারকে নিশানা করছে বিরোধীরা। উঠেছে পুরসভার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্নও। সোমবার বিষয়টি বিধানসভায় তোলেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। বেআইনি দখলদারি নিয়ে তাঁর এক প্রশ্নে ফিরহাদ জানান, রাজ্য সরকারের জমি নীতি মেনে নিলাম ছাড়া, কিংবা মন্ত্রিগোষ্ঠীর অনুমোদন ব্যতীত কোনও কেউ জমি দিতে পারবে না।
বছর খানেক আগে বেআইনি দখল নিয়ে সরব হয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন তিনি। সেই বৈঠকের মূল বিষয়ই ছিল দখল হয়ে থাকা ফুটপাথ ‘দখলমুক্ত’ করার অভিযানের পর্যালোচনা। সেই বৈঠকেই উঠে এসেছিল বেআইনি পার্কিংয়ের প্রসঙ্গও। মুখ্যমন্ত্রী কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর সরকার কোনও ভাবেই বেআইনি দখল বরদাস্ত করবে না। পুলিশ-প্রশাসনকে তিনি বেআইনি দখলদারি মুক্ত করার নির্দেশ দেন। যদিও পরে তিনি জানান, বেআইনি দখল নিয়ে সমীক্ষা করা হবে। সেই সমীক্ষার পরই ‘উচ্ছেদ’ করা হবে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।
আরও পড়ুন:
মমতা এ-ও স্পষ্ট করেছিলেন, কারও জীবিকা কেড়ে নেওয়ার জন্য এই সমীক্ষা তিনি করাচ্ছেন না। কারও ব্যবসা বন্ধ হোক তা-ও তিনি চান না। কলকাতা-সহ সারা রাজ্যকে যাতে পরিকল্পনামাফিক সাজানো যায়, তার জন্যই এই পদক্ষেপ। পরে বিষয়টি নিয়ে নানা সময়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধীরাও সুর চড়িয়েছে সরকারের বিরুদ্ধে। তাদের অভিযোগ, তৃণমূল এবং পুলিশ-প্রশাসনের একাংশ টাকার বিনিময়ে বেআইনি দখলে প্রশ্রয় দিচ্ছে। যদিও সরকারের তরফে সেই অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়। সোমবার বিধানসভায় বেআইনি দখলের প্রশ্নে আরও এক বার সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন রাজ্যের পুরমন্ত্রী।