প্রতীকী চিত্র।
পোলবায় স্কুলগাড়ি দুর্ঘটনায় আহত দুই পড়ুয়া আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি। ওই ঘটনায় স্পষ্টতই আতঙ্কিত কলকাতার বিভিন্ন স্কুলের পড়ুয়াদের অভিভাবকেরাও।
অতীতে ছোটখাটো দুর্ঘটনায় পড়েছে স্কুলগাড়ি কিংবা স্কুলবাস। কিন্তু পোলবার মতো এত বড় দুর্ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যায়নি। কিন্তু তার পরেই সতর্কতার দায় কার, এই প্রশ্নে শুরু হয়েছে ঠেলাঠেলি।
রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এ দিন জানান, সরকারি ও বেসরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকে স্কুলগাড়ি সম্বন্ধে খোঁজখবর রাখতে হবে। যে হেতু পড়ুয়ারা তাঁদের স্কুলেই পড়তে যায়।
চিন্তিত অভিভাবকদের অনেকেরই প্রশ্ন, তবে প্রশাসন কী করবে?
সম্প্রতি জোকায় ১৪টি স্কুলগাড়িকে হাতেনাতে ধরেছিল মোটর ভেহিক্লস বিভাগ। তিন বছর ধরে গাড়িগুলির ফিটনেস সার্টিফিকেট এবং বিমা ছিল না। পোলবার দুর্ঘটনার পরে এই তথ্য সামনে এলেও এমনটা হামেশাই ঘটে। কিন্তু প্রশ্ন, কী করে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তিন বছর ধরে গাড়িগুলি চলছিল?
পরিবহণ দফতর সূত্রেই খবর, স্পিড গভর্নর (গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণের যন্ত্র)-সহ অন্য প্রযুক্তিগত দিক পরীক্ষা করেই একটি গাড়িকে ‘ফিটনেস সার্টিফিকেট’ দেওয়া হয়। তার পরেই গাড়িতে অতিরিক্ত গতি তুলতে যন্ত্রটি খুলে রাখেন বহু চালক। পুরনো যন্ত্রাংশ, রিসোল টায়ার ব্যবহার করেন তাঁরা। গাড়িতে হলুদ রং করান না। ওই সব গাড়ি অন্যত্র ভাড়া খাটে। যেখানে চালককে সময় বজায় রাখতে গাড়ির গতি বাড়াতে হয়। এক স্কুলগাড়ি চালকের কথায়, ‘‘অন্যত্র ভাড়া খাটতেই হয়। শুধু স্কুলের পড়ুয়া বহন করলে পেট চলবে না।’’
সম্প্রতি উত্তর কলকাতায় দুর্ঘটনার কবলে পড়ে একটি স্কুলবাস। ওই ঘটনাতেও পড়ুয়ারা জখম হয়েছিল। সপ্তাহখানেক আগে হাওড়ায় বেপরোয়া ভাবে ভুল রাস্তায় ঢুকে পড়ায় একটি স্কুলবাসকে মুখোমুখি ধাক্কা মারে একটি বেসরকারি বাস। শুক্রবার পোলবায় স্কুলগাড়িটিতে স্পিড গভর্নর খোলা থাকায় সেটি গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি বলে অভিযোগ।
এ সব নিয়ন্ত্রণ করা কি অভিভাবক, স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব? এমন প্রশ্নও তুলছেন অভিভাবকেরা। অনেক স্কুলেরই কর্তৃপক্ষের মতে, স্কুলগাড়ি তাঁদের অধীন নয়। সরকারি নির্দেশিকা মেনে তাঁরা গাড়িচালকের লাইসেন্স-সহ অন্য কাগজপত্রের প্রতিলিপি রেখে দিতে পারেন মাত্র। এ ক্ষেত্রে তাই সক্রিয় হতে হবে প্রশাসনকেই।
যদিও শনিবার পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘‘স্কুলগাড়ি নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হতে হবে স্কুল কর্তৃপক্ষকেও। কারণ ওই স্কুলে পড়তে যাওয়ার জন্যই বাচ্চারা পুলকার ব্যবহার করছে। তাই তারা দায় এড়াতে পারেন না। প্রয়োজনে আমরা সব রকম সহযোগিতা করব।’’
অভিভাবকেরা অনেকেই মনে করেন, মত্ত কিংবা বেপরোয়া চালকদের বিরুদ্ধে, হেলমেটহীন বাইক আরোহীদের বিরুদ্ধে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নিলে, স্কুলগাড়ির মালিক-চালকেরা ছাড় পাবেন কেন? তাঁদের প্রশ্ন, শুধুমাত্র স্কুলপড়ুয়াদের নিরাপত্তার জন্য ‘সেফ ড্রাইভ, সেভ লাইফ’ এর মতো কোনও প্রকল্প পরিকল্পনা কেন নেওয়া হবে না?
পরিবহণ ও পুলিশকর্তাদের অবশ্য ব্যাখ্যা, পড়ুয়া-বোঝাই স্কুলগাড়ি ধরতে গিয়ে স্কুলে দেরি হলে অভিভাবকেরা ক্ষুব্ধ হবেন। আর বাচ্চাদের পৌঁছেই সব স্কুলগাড়ি স্কুলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে না। শুভেন্দু বলেন, ‘‘পড়ুয়ারা থাকা অবস্থায় কী ভাবে স্কুলগাড়ি পরীক্ষা করা যায় তা নিয়েও চিন্তাভাবনা চলছে।’’
এ ক্ষেত্রেই তাই সরকারি হস্তক্ষেপ সরাসরি প্রয়োজন বলেই মনে করেন অভিভাবকেরা। তাঁরা মনে করেন শিক্ষা দফতর, পুলিশ ও এবং পরিবহণ দফতরকে যৌথ ভাবে স্কুল ও স্কুলগাড়ি সংগঠনগুলির সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করে সমাধানের রাস্তা খুঁজতে হবে। এই নিয়ে মুখ্যসচিবের কাছে প্রস্তাব পাঠাতে ইতিমধ্যে পরিবহণ সচিবকে বলা হয়েছে দফতর সূত্রে খবর।
পুলকার ওনার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সুদীপ দত্ত বলেন, ‘‘আমরাও চাই স্কুল কর্তৃপক্ষ আমাদের সঙ্গে নিয়ে পুলকারের উপরে নজর রাখুন।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy