Advertisement
E-Paper

জঙ্গিদের মগজধোলাইয়ের বই সরবরাহ করতেন নদিয়ায় ধৃত যুবক! দাবি পুলিশ সূত্রের

জঙ্গি-যোগে নদিয়ার থানারপাড়া থেকে মহম্মদ বিপ্লব বিশ্বাস ওরফে আবদুল্লাহ নামে ৩২ বছরের ওই যুবককে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃত এখন পুলিশি হেফাজতে।

— প্রতীকী চিত্র।

আনন্দবাজার অনলাইন সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ২২:২৬
Share
Save

বড় রাস্তার পাশে একটা সরু গলি। সেই গলি দিয়ে একটু এগোলেই ইটের গাঁথনির উপর প্লাস্টিক আর বাঁশের ছাউনি দেওয়া এক কামরার ঘুপচি ঘর। আসবাব বলতে স্টিলের খাট, লাল রঙের একখানা আলমারি। স্বামী-স্ত্রী থাকতেন। দিনমজুরের কাজ করতেন স্বামী। গৃহকর্তা যে লেখাপড়া করতেও ভালবাসেন, কস্মিনকালেও কল্পনা করতে পারেননি পাড়াপড়শিরা। গত কয়েক মাস ধরে আপাত নিরীহ, সাদামাঠা-শান্ত স্বভাবের সেই যুবককে মাঝেমাঝেই ব্যাগভর্তি বই নিয়ে যাতায়াত করতে দেখে প্রথমে সন্দেহই হয়েছিল তাঁদের। কিন্তু কেউই সে ভাবে গুরুত্ব দেননি। এখন জানা গেল, ওই যুবক নাকি মগজধোলাইয়ের বই সরবরাহ করতেন জঙ্গিদের! রাজ্য পুলিশের এসটিএফের তদন্তে এই তথ্য উঠে আসার পর স্বাভাবিক ভাবেই আতঙ্কিত গোটা গ্রাম।

জঙ্গি-যোগে নদিয়ার থানারপাড়া থেকে মহম্মদ বিপ্লব বিশ্বাস ওরফে আবদুল্লাহ নামে ৩২ বছরের ওই যুবককে সম্প্রতি গ্রেফতার করেছে এসটিএফ। ধৃত এখন পুলিশি হেফাজতে। তদন্তকারীদের একটি সূত্রে খবর, ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জানা গিয়েছে, তিনি জঙ্গি সংগঠন ‘আনসারুল্লাহ বাংলা টিম’ (এবিটি)-এর প্রচার পুস্তিকা বিতরণ করতেন নদিয়া-মুর্শিদাবাদ জুড়ে। এসটিএফ সূত্রের দাবি, এবিটি-র অন্যতম লক্ষ্য নদিয়া-মুর্শিদাবাদে জাল বিস্তার করা। নদিয়ার সীমান্ত লাগোয়া মুরুটিয়া, হোগলবেড়িয়া, থানারপাড়া এলাকায় তাদের নানাবিধ কার্যকলাপও চলছিল অনেক দিন। মগজধোলাই করে স্থানীয় যুবকদের শামিল করা হত জঙ্গি সংগঠনে। আবদুল্লাহ সেই কাজেই সাহায্য করতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

তদন্তকারীদের সূত্রের দাবি, জঙ্গি সংগঠনের বিভিন্ন বই পাকিস্তান থেকে জেলায় আসত। আবদুল্লাহের কাজ ছিল, সেই সব বই সংগ্রহ করে ধৃত মিনারুল শেখ এবং আব্বাস আলির কাছে পৌঁছে দেওয়া। মিনারুল এবং আব্বাসকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে জঙ্গি সন্দেহে। তাঁরাও পুলিশি হেফাজতে রয়েছেন।

গোয়েন্দাদের সূত্রে খবর, মিনারুলের মোবাইল ঘেঁটে আট মিনিটের একটি ফোনে কথোপকথনের অডিয়ো রেকর্ডিং মিলেছে। তদন্তকারীদের দাবি, ওই অডিয়ো ক্লিপে বই সরবরাহ নিয়েই মিনারুল এবং আবদুল্লাহকে কথা বলতে শোনা গিয়েছে। তবে ফোনের ও পারে আবদুল্লাহই ছিলেন কি না, তা কণ্ঠস্বর মিলিয়ে দেখা হবে।

যদিও আব্দুল্লাহ স্ত্রী রুমানা বিবির দাবি, ‘‘আমার স্বামী এ সবের কিছুই জানত না। জলের মেশিন সারানো নিয়ে মিনারুলের সঙ্গে পরিচয়। সেই নিয়েই কথাবার্তা হয়েছে। আমাদের ঘরে কোনও বই নেই। কী ভাবে যে ফাঁসানো হচ্ছে, বুঝতে পারছি না।’’

arrest Nadia

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or Continue with

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy

{-- Slick slider script --}}