Advertisement
E-Paper

বিহার জয়ে সঙ্ঘের অস্ত্র ‘ত্রিশূল’ কৌশল

লোকসভা নির্বাচনে আশাতীত ফল না হলেও পরবর্তী সময়ে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে আরএসএসের সক্রিয় সহযোগিতা তিন রাজ্যে ক্ষমতা দখলে সাহায্য করেছে বিজেপিকে। দিল্লির পরেই এ বছরের শেষে নির্বাচন রয়েছে বিহারে।

— প্রতীকী চিত্র।

অনমিত্র চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ ০৮:১৬
Share
Save

দিল্লিতে ‘ত্রিদেব’-এর পরে বিহারের জন্য ‘ত্রিশূল’ নীতি নিয়ে এগোতে চাইছেন আরএসএস নেতৃত্ব।

লোকসভা নির্বাচনে আশাতীত ফল না হলেও পরবর্তী সময়ে হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে আরএসএসের সক্রিয় সহযোগিতা তিন রাজ্যে ক্ষমতা দখলে সাহায্য করেছে বিজেপিকে। দিল্লির পরেই এ বছরের শেষে নির্বাচন রয়েছে বিহারে। পূর্ব ভারতের ওই রাজ্যে ক্ষমতা ধরে রাখার প্রশ্নে মরিয়া গেরুয়া শিবির। তাই দিল্লি জয় সাঙ্গ হতেই ত্রিশূল নীতি নিয়ে বিহার জয়ে নামার পরিকল্পনা নিয়েছে আরএসএস।

বিহারে নির্বাচন হওয়ার কথা আগামী অক্টোবর-নভেম্বর মাসে। প্রস্তুতির অঙ্গ হিসাবে তিনটি বিষয়ে জোর দেওয়ার নীতি নিয়েছে আরএসএস। প্রথমত— অনিচ্ছুক ভোটারদের চিহ্নিত করা। দ্বিতীয়ত— কোন বিষয়গুলি ভোটের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে, সেগুলি চিহ্নিত করা। তৃতীয়ত— এমন ঘটনা বা বিষয় খুঁজে বার করা, যেগুলি বিজেপির পক্ষে বা বিপক্ষে যেতে পারে। আরএসএস সূত্রের ব্যাখ্যা, ওই তিনটি বিষয় নিয়ে সঙ্ঘ কর্মীদের জনমত সমীক্ষায় নামতে বলা হয়েছে। এই জনমত সমীক্ষার অন্যতম লক্ষ্য হল, বিহারে এনডিএ-র যে বিধায়কেরা ক্ষমতায় রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কাদের বিরুদ্ধে জনতার অসন্তোষ রয়েছে, তা খুঁজে বার করা। যে সমীক্ষার ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে ওই নেতাদের টিকিট দেওয়া না দেওয়া চূড়ান্ত করা হবে। পাশাপাশি দিল্লিতে যেমন অরবিন্দ কেজরীওয়ালের সুসজ্জিত সরকারি বাসভবন শিশমহল বা যমুনার দূষণ প্রচারের মূল বিষয় হয়ে উঠেছিল, তেমনই বিহারে কোন বিষয়গুলি শাসক ও বিরোধী শিবির উভয়ের প্রচারের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, তা আগে থেকেই চিহ্নিত করা। একই সঙ্গে কোন বিষয়গুলি সরকারের পক্ষ যাবে আর কোনগুলি বিপক্ষে যাবে, তা খুঁজে নিয়ে পাল্টা রণনীতি তৈরি করে মাঠে নামা।

দিল্লির ত্রিদেব নীতির মতো বিহারেও সংগঠন বাড়ানোর উপরে জোর দিয়েছে আরএসএস। দিল্লিতে ত্রিদেব নীতি মেনে বুথ পর্যায়ে একজন পুরুষ, একজন মহিলা ও এক জন যুবক— এই তিন জনের একটি ইউনিট গড়ে তোলা হয়। যাদের উপরে নির্দেশ ছিল, অন্তত আরও দশ জন ব্যক্তিকে সেই ত্রিদেব নেটওয়ার্কের আওতায় নিয়ে আসা। ত্রিদেবের অন্যতম লক্ষ্য ছিল, ভোটদানে অনিচ্ছুক ব্যক্তিদের ও বিশেষ করে বিজেপি বিরোধীদের বেশি করে ওই নেটয়ার্কের অংশ বানানো। বুথের ভোটার সংখ্যার হিসাবে প্রতিটি বুথে ক’টি ত্রিদেব ইউনিট থাকবে, তা স্থির করা হত। ওই ত্রিদেব কৌশল খেটে যাওয়ায় এ যাত্রায় দিল্লিতে অন্তত বুথ পর্যায়ে শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে সক্ষম হয় গেরুয়া শিবির। দিল্লির ধাঁচে বিহারে এ বার নিচুতলায় গেরুয়া শিবিরের পক্ষে জনভিত্তি বানাতে ময়দানে নামছে আরএসএস।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bihar Assembly Election RSS

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or Continue with

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy

{-- Slick slider script --}}