প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এই প্রথম বার নাগপুরে আরএসএসের সদর দফতর রেশম বাগে হেডগেওয়ার স্মৃতিমন্দিরে গেলেন নরেন্দ্র মোদী। ঘুরে দেখলেন স্মৃতিমন্দির। সেখানে একটি বার্তা লিখে এলেন তিনি। মন্দির পরিদর্শন করে তিনি কতটা অভিভূত, সেটাই বোঝালেন নিজের বার্তায়।
আরএসএসের প্রথম সরসঙ্ঘচালক কেশব বলিরাম হেডগেওয়ারের স্মৃতিতে তাঁর উত্তরসূরি এমএস গোলওয়ালকর হেডগেওয়ার স্মৃতিমন্দির তৈরি করেছিলেন। পরে গোলওয়ালকরের স্মৃতি স্মারকও সেখানেই তৈরি হয়। গোলওয়ালকরের স্মৃতিতেই তৈরি হয়েছে মাধব নেত্রালয়। রবিবার নাগপুরে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী সোজা চলে যান স্মৃতিমন্দিরে। কেশব বলিরাম হেডগেওয়ার এবং তাঁর উত্তসূরি গোলওয়ালকরের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা জানান মোদী। রেশম বাগ সফরে আগাগোড়াই তাঁর সঙ্গে ছিলেন সঙ্ঘের প্রধান মোহন ভাগবত, মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফডণবীসেরা।
ভারতের সেবায় সঙ্ঘ এবং তার স্বেচ্ছাসেবকেরা কী ভূমিকা নেন, তা নিজের বার্তায় তুলে ধরেছেন মোদী। তিনি লেখেন, ‘‘ভারতীয় সংস্কৃতি, জাতীয়তাবাদ এবং সঙ্ঘের মূল্যবোধের প্রতি নিবেদিত এই পবিত্র স্থানই জাতির সেবায় আমাদের অনুপ্রেরণা জোগায়। আমরা চাই, আমাদের প্রচেষ্টা ভারতকে আরও উজ্জ্বল করুক।’’ স্মৃতিমন্দির পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী নাগপুরে মাধব নেত্রালয় প্রিমিয়াম সেন্টারের শিলান্যাস করেন। পাশাপাশি, মোদী রবিবার ‘সোলার ডিফেন্স অ্যান্ড অ্যারোস্পেস’ লিমিটেড ঘুরে দেখবেন। নাগপুর সফর সেরে তিনি উড়ে যাবেন ছত্তীসগঢ়।
মোদী শেষ বার সঙ্ঘের সদর দফতরে গিয়েছিলেন ২০১৩-র জুলাই মাসে, বিজেপির প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হিসেবে মনোনীত হওয়ার পরে। ১২ বছর পর আবার সঙ্ঘের সদর দফতরে পা রাখলেন তিনি। এখন তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী। রবিবার ‘বিক্রম সম্বত’ বা হিন্দু নববর্ষের প্রথম দিন, যা মহারাষ্ট্রে গুড়ি পড়ওয়া হিসেবে পালিত হয়। আরএসএসের শতবর্ষে হিন্দু নববর্ষের প্রথম দিনে তাঁর সঙ্ঘের সদর দফতর যাওয়াকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকেই। তাঁদের মতে, বিজেপির পরবর্তী সভাপতি কে হবেন, তা-ও মোদী-ভাগবত আলোচনায় উঠে আসতে পারে।