আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের তকমা দেওয়ার বিরুদ্ধেই চূড়ান্ত অবস্থান নিল নরেন্দ্র মোদী সরকার।
জেএনইউ ও হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনায় প্রবল সমালোচনার মুখে পড়লেও মোদী সরকার আলিগড় নিয়ে কট্টর অবস্থানেই অনড় থাকছে। কেন্দ্রের তরফে অ্যাটর্নি জেনারেল মুকুল রোহতগি আজ সুপ্রিম কোর্টকে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান সরকার এ বিষয়ে ইউপিএ সরকারের থেকে ভিন্ন অবস্থান নিচ্ছে।
মোদী সরকার প্রথম থেকেই আলিগড় ও দিল্লি জামিয়া মিলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়কে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়ার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে প্রবল রাজনৈতিক বিরোধিতার মুখে পড়লেও মোদী সরকারের যুক্তি হল, এই তকমা অসাংবিধানিক। সংসদের আইনের মাধ্যমে যে বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি হয়েছে, পরে তাকে ধর্মের ভিত্তিতে বিশেষ তকমা দেওয়া দেশের ধর্মনিরপেক্ষ নীতির বিরুদ্ধে। তা ছাড়া, সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অর্ধেক আসন সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত থাকায় তফসিলি জাতি, উপজাতি, অন্যান্য অনগ্রসর শ্রেণির পড়ুয়াদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। কারণ সেখানে জাতপাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণ থাকে না।
বিহার ভোটের মুখে এই জাতপাতের ভিত্তিতে সংরক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেই সঙ্ঘ-প্রধান মোহন ভাগবত বিপাকে ফেলেছিলেন বিজেপি ও নরেন্দ্র মোদীকে। সে যাত্রা মোদীকে ঘোষণা করতে হয়, সংরক্ষণ থাকছে। আলিগড় পর্বে সেই জাতপাতের সরংক্ষণকেই হাতিয়ার করছে তাঁর সরকার। মোদী সরকারের এই অবস্থান নেওয়ায় সংখ্যালঘু পড়ুরা বঞ্চিত হবেন বলে এ দিনই সরব হয়েছেন ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কিছু ছাত্র।
মোদী সরকারের অবস্থান নিয়ে কংগ্রেসের নেতা আনন্দ শর্মা আজ অভিযোগ তোলেন, ‘‘হায়দারাবাদ, জেএনইউ থেকে আলিগড়ের মতো একের পর এক বিশ্ববিদ্যালয়ে মোদী সরকার পরিকল্পিত ভাবে হস্তক্ষেপ করছে। এর মূল উদ্দেশ্য হল, সংখ্যালঘুদের মধ্যে নিরাপত্তার অভাব এবং সমাজে ভেদাভেদ তৈরি করা।’’ বিজেপির মুখপাত্র সম্বিত পাত্রের পাল্টা বক্তব্য, ‘‘যাঁরা এ নিয়ে রাজনীতি করছেন, তাঁদের কাছে প্রশ্ন, তাঁরা কি আলিগড়ে দলিতদের সংরক্ষণের বিরুদ্ধে?’’
ইন্দিরা গাঁধীর আমলে ১৯৮১-তে আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে সংশোধন করে একে সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠানের তকমা দেওয়া হয়েছিল। ২০০৬-এ ওই আইন খারিজ করে দেয় ইলাহাবাদ হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের ওই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানায় ইউপিএ সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ইউপিএ সরকারের সেই আবেদনই এ বার প্রত্যাহার করে নিচ্ছে মোদী সরকার। তার বদলে নতুন হলফনামা দিয়ে জানানো হবে যে, আলিগড় মুসলিম বিশ্ববিদ্যালয় সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান নয়। অ্যাটর্নি জেনারেল এ দিন সুপ্রিম কোর্টকে জানান, তিনি শুধু কেন্দ্রের হয়ে কথা বলছেন, আলিগড় কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে নয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যালঘু তকমা বজায় রাখতে গত মাসেই আলিগড়ের উপাচার্য জামিরউদ্দিন শাহ প্রধানমন্ত্রী মোদীর কাছে দরবার করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর কাছে সংখ্যালঘু তকমা বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়ে তিনি যুক্তি দেন, সংখ্যালঘুদের মধ্যে শিক্ষার প্রসারের জন্যই এই প্রতিষ্ঠান তৈরি হয়েছে। সংখ্যালঘুরা এমনিতেই তাঁদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি নিয়ে আশঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছেন। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় সরকারের উচিত, বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য আরও অনুদানের ব্যবস্থা করা। কিন্তু অ্যাটর্নি জেনারেল এ দিন যুক্তি দিয়েছেন, কেন্দ্রীয় আইনে আলিগড় তৈরি হয়েছিল। এর পর ১৯৬৭ সালে শীর্ষ আদালতের সাংবিধানিক বেঞ্চ রায়দেয়, আলিগড় একটি কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়, সংখ্যালঘু প্রতিষ্ঠান নয়। কিন্তু তার পরেও সেই রায়কে এড়িয়ে কেন্দ্রীয় আইন সংশোধন করে একে সংখ্যালঘু তকমা দেওয়া হয়েছিল। যদিও ধর্মের ভিত্তিতে কোনও রকম ভেদাভেদ করা সংবিধানের ১৫-তম অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে। এবং এ কারণেই সরকার মনমোহন সিংহ জমানার আবেদনটি ফিরিয়ে নেবে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy