১৫ বছর আগে গোয়ার জেল ভেঙে পালানো কয়েদি ধৃত দিঘার হোটেল থেকে। — প্রতীকী ছবি।
খুনের মামলার আসামী গোয়ার হাজত ভেঙে পালিয়েছিলেন। ১৫ বছর পর সেই কয়েদি ধরা পড়লেন বাংলার দিঘা সৈকতের একটি হোটেল থেকে।
গোয়ার ভাটলেমের বাসিন্দা জ্যাকসন ডাদেল ২০০৫-এ গডউইন ডিসিলভাকে খুন করেন। পনজিম থানার পুলিশ আরও কয়েক জনের সঙ্গে জ্যাকসনকেও গ্রেফতার করে। তাঁদের রাখা হয় মারগাঁও জেলে। ২০০৭-য়ে খুনে দোষী সাব্যস্ত হন জ্যাকসন। গডউইনকে ছুরি মেরে হত্যা করেছিলেন জ্যাকসন ও তাঁর এক সঙ্গী। কিন্তু সাজা ঘোষণার দিন জেলের ফটক ভেঙে আরও ১২ জনের সঙ্গে পালান জ্যাকসনও। যাওয়ার আগে জেলের কর্মীদের একটি কুঠুরিতে বন্দি করে তালা মেরে দেন। তার পর থেকেই বেপাত্তা জ্যাকসন।
মারগাও থানায় এ নিয়ে পৃথক একটি মামলা করে পুলিশ। শুরু হয় জ্যাকসনের খোঁজে তল্লাশি। কিন্তু তন্ন তন্ন করেও খোঁজ মেলে না জ্যাকসনের। কিছু দিন আগেই গোপন সূত্রে গোয়ার পুলিশ খবর পায়, জ্যাকসনের মতো দেখতে এক ব্যক্তি বাংলার পূর্ব মেদিনীপুরের দিঘার একটি হোটেলে কাজ করছেন। সেই মতো অভিযান শুরু হয়।
গোয়া পুলিশের ডেপুটি পুলিশ সুপার সূরজ হালানকরের নেতৃত্বে একটি দল দিঘায় আসে। শুক্রবার, গোয়া পুলিশের জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘অভিযুক্ত জ্যাকসনের উপস্থিতির ব্যাপারে আমরা খবর পাই। কলকাতা থেকে ২০০ কিলোমিটার দূরের পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দিঘায় একটি হোটেলে তিনি কাজ করছেন বলে জানতে পারি। সেই অনুযায়ী অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করা হয়।’’ পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৫ বছর ধরে জ্যাকসনের পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে চলেছেন। তিনি তাঁর নাম বদল করে নিয়েছিলেন এবং দিঘার একটি হোটেলে ‘ফ্রন্ট অফিস ম্যানেজার’ হিসাবে কাজ করছিলেন। কারও যাতে সন্দেহ না হয় সে জন্য এমনকি নিজের জন্মদিনও বদলে ফেলেছিলেন। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।
পূর্ব মেদিনীপুরের ডিএসপি রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ‘‘গোয়া পুলিশ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহায়তা চেয়েছিল। আমরা দিঘা থানার পুলিশের একটি দল তাঁদের সঙ্গে পাঠাই। একটি হোটেল থেকে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে আমরা ওদের হাতে তুলে দিয়েছি। আমরা খতিয়ে দেখছি, ওই হোটেল কর্তৃপক্ষকে ওই ব্যক্তি কী কাগজপত্র দেখিয়ে কাজ পেয়েছিলেন।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy