জীবনে বহু আন্দোলনের পথ পেরিয়ে এসেছেন তিনি। দলের ২৪তম পার্টি কংগ্রেসের সূচনায় পতাকা উত্তোলন হল তাঁরই হাত দিয়ে। এই নিয়ে পরপর দু’বার পার্টি কংগ্রেসের মঞ্চে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হল তাঁকে। রাজনীতির নানা বাঁক দেখে আসার পরে জীবন সায়াহ্নে এসে বিমান বসু চান, পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলনে অংশগ্রহণ করতে। এমন ইচ্ছা তাঁর বেশ কিছু দিনেরই। মাদুরাইয়ে পার্টি কংগ্রেসের প্রথম দিনে আলাপচারিতায় বর্ষীয়ান সিপিএম নেতার মন্তব্য, ‘‘আর হয়তো দু-তিনটে বছর বাঁচব! পরিবেশ কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠছে। এই পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলনটা করে যেতে চাই।’’
শহরের চার পাশে বিপুল সংখ্যায় নিম গাছ কী ভাবে অক্সিজেন জুগিয়ে কোভিড-কালে মাদুরাইকে সাহায্য করেছে, তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন বিমান। এই শহরে ১৯৭২ এবং এখন ২০২৫ সালে দুই পার্টি কংগ্রেসে শামিল হয়েছেন, এমন তিন জন নেতা এখানে আছেন। বিমান তাঁর মধ্যে এক জন। যদিও জানাচ্ছেন, তিনি এখানে এসেছেন চার বার। দুই সুহৃদ বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য ও সীতারাম ইয়েচুরির মৃত্যুর পরে প্রথম পার্টি কংগ্রেসে এসে আলিমুদ্দিন স্ট্রিটের বাসিন্দা স্মৃতিকাতর। পার্টি কংগ্রেসের সভাস্থলের নাম দেওয়া হয়েছে সীতারাম ইয়েচুরি নগর, মূল প্রবেশ-দ্বার বুদ্ধদেবের নামে। বর্ষীয়ান নেতা বিমানকে ‘স্বাধীনতা’ দেওয়া হয়েছে, যখনই তাঁর মনে হবে, কলকাতা ফিরে যেতে পারবেন।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)