শনিবার দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ। নিজস্ব চিত্র
কাজ চেয়ে শনিবার দুর্গাপুরের শোভাপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের গেটে বিক্ষোভ দেখালেন স্থানীয় আদিবাসীদের একাংশ। দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত বিক্ষোভ চলে। ফলে, শোভাপুর যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিল পুলিশের বড় বাহিনী ও কমব্যাট ফোর্স।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এক সময় উঁচু-নিচু পাথুরে জমি, জঙ্গল ছিল এলাকায়। বহুদিন আগে আদিবাসীরা সেখানে চাষাবাদ শুরু করেন। তাঁরা জানান, বংশ পরম্পরায় সেখানে চাষ করতেন তাঁরা। বাম আমলে ওই এলাকায় হাসপাতাল ও আবাসন তৈরির প্রকল্প নেয় একটি বেসরকারি সংস্থা। আদিবাসীদের জমি চলে যায় প্রকল্প এলাকার মধ্যে। এর পরে থেকেই আদিবাসীরা কাজের দাবি জানাচ্ছেন।
সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ পর্যন্ত এগারো জনকে কাজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আরও বেশি সংখ্যায় স্থানীয় বাসিন্দাদের কাজের দাবি জানিয়েছেন আদিবাসীরা। স্থানীয় যুবক শিবাজী মুর্মু বলেন, ‘‘এখানে সাড়ে চারশো থেকে পাঁচশো কর্মী কাজ করছেন। অথচ, আমাদের মাত্র এগারো জনকে কাজে নেওয়া হয়েছে। যোগ্যতা অনুযায়ী, কাজ চেয়ে বারবার লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বৈঠকও হয়েছে। কিন্তু কথা রাখা হয়নি।’’
এই পরিস্থিতিতে এ দিন দুপুরে শুরু হয় আন্দোলন। সমর্থন করে ‘পশ্চিম বর্ধমান আদিবাসী গাঁওতা’। গাঁওতার নেতা সুনীল সরেন বলেন, ‘‘জমিহারা আদিবাসীরা কাজের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করছেন। প্রতিশ্রুতি মিলছে। কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। তাই লিখিত ভাবে কর্তৃপক্ষ আদিবাসীদের দাবি না মানা পর্যন্ত লাগাতার আন্দোলন চলবে।’’ তাঁর অভিযোগ, এই কর্মসূচি বন্ধ করার জন্য আদিবাসী যুবকদের ফোনে পুলিশ ‘মিথ্যা মামলা’ করার ভয় দেখায়। সুনীলবাবুর দাবি, ‘‘পুলিশ তৃণমূলের হয়ে কাজ করছে।’’ যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছে পুলিশ।
এ দিকে, বিক্ষোভের জেরে সামনের রাস্তায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। অনেকে সমস্যায় পড়েন। সুনীলবাবুর অবশ্য দাবি, রাস্তা অবরোধের কোনও কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। বহু মানুষ আসায় রাস্তার কিছুটা আটকে যায়।
কর্তৃপক্ষ জানান, আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা মেটানোর প্রক্রিয়া চলছে। বিকেলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের আলোচনা হলেও সমাধানসূত্র মেলেনি বলেই জানা গিয়েছে। দাবি লিখিত ভাবে না মানা পর্যন্ত টানা বিক্ষোভ চলবে বলে জানিয়েছেন আদিবাসী নেতারা।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy