যাদবপুরকাণ্ডের প্রতিবাদে সরব তৃণমূলপন্থী অধ্যক্ষদের সংগঠন নিখিল বঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ। রবিবার সংগঠনের কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির বার্ষিক সভা ছিল। বৈঠকে শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু এবং ওয়েবকুপার সম্মলেন আসা অধ্যাপকদের ‘হেনস্থা’র নিন্দা জানানো হয়। রবিবার বৈঠক শেষে এক বিবৃতিতে যাদবপুরের ঘটনাকে ‘বর্বরোচিত’ বলে ব্যাখ্যা করছেন সংগঠনের বৈঠকে উপস্থিত অধ্যক্ষেরা।
তৃণমূলপন্থী অধ্যক্ষ সংগঠনের রবিবারের সভায় উপস্থিত ছিলেন দমদমের সাংসদ সৌগত রায়, কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায়, রাসবিহারীর বিধায়ক দেবাশিস কুমার-সহ অন্যেরা। তাঁদের সভার শুরুতেই উঠে আসে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শনিবারের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কথা। পরে বিবৃতিতে সংগঠন জানায়, ‘‘কিছু গুন্ডারূপী ছাত্রের বর্বরোচিত আক্রমণের নিন্দা’’ জানানো হয়েছে বৈঠকে।
শনিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ ‘ওপেন এয়ার থিয়েটার’ (ওএটি)-তে তৃণমূলপন্থী অধ্যাপক সংগঠন ওয়েবকুপার বার্ষিক সম্মেলন ছিল। তা নিয়েই দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে পরিস্থিতি। হামলা হয় ওয়েবকুপার সভাপতি তথা রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসুর গাড়িতে। বিক্ষোভের মুখে পড়ে আহত হন তিনি। পরে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে ছেড়ে দেওয়া হয় মন্ত্রীকে। বিক্ষোভকারীদের পাল্টা অভিযোগ, মন্ত্রীর গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছেন এক ছাত্র। পরে রাতে আহতদের হাসপাতালে দেখতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভাস্কর গুপ্তও পড়ুয়াদের একাংশের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। অভিযোগ, সেখানেই কয়েক জন ছাত্রী তাঁর উপর চড়াও হন এবং তাঁর পরনের পাঞ্জাবিও ছিঁড়ে দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন:
যাদবপুরের ঘটনার নিন্দা জানানোর পাশাপাশি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন কমিটিও ঘোষণা করে নিখিলবঙ্গ অধ্যক্ষ পরিষদ। নতুন কমিটির সভাপতি হয়েছেন নিউ আলিপুর কলেজের অধ্যক্ষ জয়দীপ যড়ঙ্গী, সহসভাপতি হয়েছেন বিধানচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষ রমেশ কর। নবগঠিত কমিটির সম্পাদক তথা আশুতোষ কলেজের অধ্যক্ষ মানস কবি জানান, কলেজগুলির উন্নয়নে এই কমিটি কাজ করবে। একইসঙ্গে তিনি আরও বলেন, “আজকের বার্ষিক সভা থেকে গতকাল শিক্ষামন্ত্রীর গাড়িতে হামলা এবং অধ্যাপকদের হেনস্থা ও মারধরের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। যে দলের ছাত্ররা এই কাজ করে থাকুক, দ্বিতীয়বার এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলে অধ্যক্ষেরা সংঘটিত ভাবে রাজপথে আন্দোলনে নামব।”