নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় সিবিআই যে অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দিয়েছে, তাতে দু’জায়গায় নাম রয়েছে জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বুধবার সকালে সেই খবর প্রথম প্রকাশিত হয় আনন্দবাজার অনলাইনে। তার অব্যবহিত পরেই তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবী বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছিলেন, তাঁর মক্কলের ‘ভাবমূর্তি নষ্ট’ করার চেষ্টা হচ্ছে। কিন্তু বুধবার অভিষেক নিজে কিছু বলেননি। তবে বৃহস্পতিবার নেতাজি ইন্ডোরের দলীয় সভায় বক্তৃতা করতে গিয়ে সিবিআইয়ের চার্জশিটে নাম থাকা নিয়ে মুখ খুললেন অভিষেক।
অভিষেক বলেছেন, ‘‘সিবিআই একটা ২৮ পাতার চার্জশিট জমা দিয়েছে। তাতে দু’জায়গায় আমার নাম লিখেছে। কিন্তু অভিষেক ব্যানার্জি কে? এমএলএ না এমপি? কোথায় থাকে, কার ছেলে, কী করে, কিছু লেখেনি। বিজেপি যেমন ভাববাচ্যে কথা বলে, তেমন সিবিআইও ভাববাচ্যে কথা বলেছে।’’
সুজয়কৃষ্ণ ভদ্র (‘কালীঘাটের কাকু’)-সহ কয়েক জনের কথোপকথনের একটি অডিয়ো ক্লিপের কথা জানিয়ে চার্জশিটে সিবিআই লিখেছে, ওই অডিয়োয় রাজ্যের প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যের নামের উল্লেখ শোনা গিয়েছে। পাশাপাশিই চার্জশিটে সিবিআইয়ের দাবি, অডিয়োয় জনৈক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামও শোনা গিয়েছে। অডিয়ো ক্লিপটির ‘সত্যতা’ যাচাই করার জন্য সেটি সেন্ট্রাল ফরেন্সিক সায়েন্সেস ল্যাবরেটরিতে পাঠিয়েছে সিবিআই। তবে ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত একাধিক সাক্ষী ওই অডিয়ো ‘সত্য’ বলে জানিয়েছেন বলেই সিবিআইয়ের দাবি।
আরও পড়ুন:
চার্জশিটে অভিষেকের কোনও পরিচয় উল্লেখ করেনি সিবিআই। তা নিয়েই বৃহস্পতিবার কটাক্ষ করেছেন অভিষেক। প্রসঙ্গত, শুভেন্দু অধিকারী-সহ বিজেপির একাধিক নেতা অভিষেককে কটাক্ষ করতে গিয়ে ‘ভাইপো’ বলে উল্লেখ করতেন। অভিষেক তার জবাবে বলতেন, ‘‘ওদের সাহস নেই বলে ভাববাচ্যে কথা বলে। আমার নাম করে বলার হিম্মত থাকলে বুঝতাম।’’ সিবিআই চার্জশিটে তাঁর নাম উল্লেখ করলেও কোনও পরিচয় না লেখায় ওই কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থাকে বিজেপি নেতাদের সঙ্গে একই বন্ধনীভুক্ত করেছেন ডায়মন্ড হারবারের তৃণমূল সাংসদ।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অভিষেককে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল সিবিআই। ২০২২ সালের শেষে অভিষেক যখন ‘নবজোয়ার যাত্রা’ করছিলেন, সেই সময়েই তাঁকে হাজিরা দিতে বলে সিবিআই। বাঁকুড়ায় কর্মসূচি স্থগিত রেখে নিজ়াম প্যালেসে এসে হাজিরা দিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সেই প্রসঙ্গও টেনেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর কথায়, ‘‘আমায় ডেকে ১০ ঘণ্টা জেরা করেছিল। নবজোয়ার থামিয়ে দিয়ে এসেছিলাম। সে দিনও যা বলেছিলাম, আজও তাই বলছি। কোথাও যদি প্রমাণ করতে পারে, আমার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষে মদতে ১০ পয়সার দুর্নীতি হয়েছে, তা হলে চার্জশিট দিতে হবে না। ফাঁসির মঞ্চে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে নেব!’’