স্বামীকে খুন করার পর তাঁর দেহ ট্রলি ব্যাগে ভরে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ওড়িশার খুরদার ওই ঘটনায় এ বার অভিযুক্ত স্ত্রীকে জামিনের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। পুলিশি তদন্তে উঠে আসে, ওই মহিলার স্বামী নিয়মিত মদ্যপান করতেন। মত্ত অবস্থায় প্রায়শই তিনি স্ত্রীকে মারধর করতেন। স্বামীর অত্যাচার থেকে মুক্তি পেতে এক আত্মীয় এবং এক সঙ্গীর সাহায্য নিয়ে মহিলাকে তাঁকে খুন করেন বলে অভিযোগ। তার পরে দেহটি একটি ট্রলি ব্যাগে ভরে জঙ্গলে ফেলে রেখে এসেছিলেন, যেটি পরে পুলিশ উদ্ধার করে।
ঘটনাটি ২০২৩ সালের। ওই বছরের ২৩ জানুয়ারি মহিলাকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পর থেকে দু’বছরেরও বেশি সময়ে জেলে কাটিয়ে ফেলেছেন খুনের মামলায় অভিযুক্ত স্ত্রী। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি এন কোটিশ্বর সিংহের বেঞ্চে তাঁর জামিনের আর্জির শুনানি ছিল। মহিলা যে দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে হেফাজতে রয়েছেন, তা শুনানিতে উঠে আসে। পাশাপাশি মহিলা এক সন্তান রয়েছে, সেটির উপরও গুরুত্ব দেয় আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ, এই মামলায় মোট ৩৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ১৫ জনের বয়ান সংগ্রহ হয়েছে। বিচার প্রক্রিয়া শেষ হতে এখনও কিছুটা সময় লাগবে। এই অবস্থায় অভিযুক্ত মহিলাকে জামিনের নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালত জানিয়েছে, ওই মহিলা সাক্ষীদের প্রভাবিত করার মতো অবস্থায় নেই। পাশাপাশি সন্তানের দেখাশোনা করারও প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছে আদালত।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, ওই মহিলার স্বামী প্রায়শই মত্ত অবস্থায় তাঁকে মারধর করতেন। ২০২৩ সালের ২০ জানুয়ারিও সেই রকমই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল মহিলার বাড়িতে। স্বামীর মারধর এবং অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে তাঁকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন স্ত্রী। এই কাজে এক আত্মীয় এবং বন্ধুর সাহায্য নেন মহিলা। পরের দিন ওই বন্ধু এবং আত্মীয়কে বাড়িতে ডাকেন মহিলা। মহিলার ওই আত্মীয়ই ট্রলি ব্যাগ কিনে আনেন। প্রথমে তাঁরা স্বামীকে মদ্যপান করিয়ে বেহুঁশ করেন এবং তার পরে অর্ধচেতন অবস্থায় থাকা স্বামীকে তিন জন মিলে খুন করেন বলে অভিযোগ। খুনের পরে দেহটি ট্রলি ব্যাগে ভরে জঙ্গলের মধ্যে ফেলে আসেন তাঁরা।