মেরঠের জেলে বার বার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন মুস্কান রস্তোগী। স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খুনে অভিযুক্ত হয়ে বন্দি তিনি। ওই একই জেলে একই অভিযোগে বন্দি তাঁর প্রেমিক সাহিল শুক্লও। জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। দু’জনেই অস্থির হয়ে উঠছেন। প্রাথমিক পরীক্ষার পরে জানা গিয়েছে, মাদকাসক্তির কারণে এ রকম আচরণ করছেন তাঁরা। জেলরক্ষীদের একাংশ মনে করছেন, সন্তানসম্ভবা হতে পারেন মুস্কান। মেরঠের ওই জেলের সুপার বীরেশরাজ শর্মা জানিয়েছেন, প্রয়োজনে মুস্কানের গর্ভধারণের পরীক্ষা করানো হতে পারে। জেল সূত্রে খবর, সোমবার সেই পরীক্ষা করানো হতে পারে। অন্য দিকে, ছ’বছরের কন্যা পিহুর সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে জেল কর্তৃপক্ষের কাছে আর্জি জানিয়েছেন মুস্কান।
আদালতের নির্দেশে গত ১৯ মার্চ থেকে মেরঠের জেলে রয়েছেন মুস্কান এবং সাহিল। দু’জনে একই কুঠুরিতে থাকতে চেয়ে অনুরোধ করেছিলেন। দাবি করেছিলেন, তাঁরা স্বামী-স্ত্রী। কিন্তু জেল কর্তৃপক্ষ সেই আর্জি খারিজ করেছেন। তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন, জেলের নিয়ম মেনে এটা সম্ভব নয়। মুস্কান এবং সাহিলকে আলাদা দু’টি কুঠুরিতে রাখা হয়েছে। এর পরে তাঁরা পরস্পরের সঙ্গে দেখা করতে চেয়ে আর্জি জানিয়েছিলেন বলে খবর। কর্তৃপক্ষ তাঁদের জানিয়েছেন, স্বামী-স্ত্রী হওয়ার প্রমাণ দিতে পারলে তাঁদের সাক্ষাৎ বা একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা করার ভাবনাচিন্তা করা হতে পারে।
জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, যবে থেকে সাহিল এবং মুস্কান জেলে রয়েছেন, কোনও পরিচিত তাঁদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়ে আবেদন করেননি। মুস্কান সারা দিন মুখ ঢেকে নিজের কুঠুরিতে বসে থাকেন। কারও সঙ্গে কথাবার্তা বলেন না। কারও চোখের দিকে তাকান না। মুস্কান যে কুঠুরিতে রয়েছেন, সেখানে বন্দির সংখ্যা প্রায় ৪০। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন খুনে অভিযুক্ত বলে খবর। এক মহিলা ওয়ার্ডেন জানিয়েছেন, মুস্কানকে খুনের অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন করতে বাকি সহবন্দিদের জেল কর্তৃপক্ষ বারণ করে দিয়েছেন। ১৯ তারিখ থেকে ওই কুঠুরিতে রয়েছেন মুস্কান। জেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম রাতে কিছু খেতে চাননি তিনি। পরের দিন সকালেও কিছু খাননি তিনি। কাউন্সেলিং করার পরে অল্প অল্প করে খাচ্ছেন মুস্কান। জেলের রক্ষীদের একাংশ মনে করছেন, মুস্কান সন্তানসম্ভবা হতে পারেন। সে জন্য তাঁর পরীক্ষা করানো হবে বলে জানিয়েছেন জেল সুপার বীরেশরাজ। জেলা হাসপাতালে হতে পারে সেই পরীক্ষা।
অন্য দিকে, সাহিল সব সময় ছটফট করেন নিজের কুঠুরিতে। তাঁর শরীর ভেঙে পড়েছে। কখনও খেয়ে নেন, কখনও খান না। জেলের চিকিৎসক সাহিলকে পরীক্ষা করে জানিয়েছেন, মাদকাসক্তির তাড়নায় এ রকম করছেন তিনি। তাঁকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। মাদকাসক্তির কারণে ছটফট করেন মুস্কানও। তাঁকেও পরীক্ষা করেছেন চিকিৎসকেরা। দু’জনের কাউন্সেলিংও করা হয়েছে বলে খবর।
অভিযোগ, ৪ মার্চ খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে স্বামী সৌরভ রাজপুতকে খাইয়েছিলেন মুস্কান। তার পরে তাঁকে খুন করেছিলেন। শেষে সাহিলের সঙ্গে মিলে তাঁর দেহ টুকরো করে বাজার থেকে কেনা ড্রামে ভরেছিলেন। সেই ড্রামের উপর গোলা সিমেন্ট ঢেলে দিয়েছিলেন। তার পরে হিমাচলে চলে গিয়েছিলেন দু’জনে। সেখান থেকে সৌরভের ফোন ব্যবহার করে সমাজমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেছিলেন। পরে মুস্কান নিজের বাবা-মায়ের কাছে স্বীকার করেন যে, সাহিলের সঙ্গে মিলে স্বামীকে খুন করেছেন তিনি। গত সপ্তাহে সাহিল এবং মুস্কানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।