ছুটির দিন। বাইরের কাজ থেকে বিরতি। ঘরে অনেক কাজ রয়েছে। কিন্তু কিছুই করতে ইচ্ছে করছে না। বদলে সকাল থেকে বিছানায় শুয়ে রয়েছেন আর ফোন ঘেঁটে চলেছেন। এক বার ফেসবুক থেকে ঘুরে এলেন তো পরক্ষণেই ইনস্টাগ্রামে প্রবেশ করলেন। তার পর মনস্থির করলেন, আর ফোনে হাত দেবেন না। কিন্তু কিছু ক্ষণের মধ্যেই মন অস্থির হয়ে উঠল। আবার ফোন চলে এল হাতে। চিকিৎসকেরা বলছেন, শুয়ে শুয়ে ফোনে চোখ রাখলে আক্ষরিক অর্থে কাজ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। কিন্তু চোখ, মাথার বিশ্রাম হয় না। কায়িক পরিশ্রম না হলেও শক্তিক্ষয় হতে থাকে। এই চক্রব্যূহ থেকে বেরোনো অনেকের ক্ষেত্রেই মুশকিল হয়ে পড়ে। অথচ মস্তিষ্ক কিন্তু একেবারেই অলস প্রকৃতির নয়। সে সারা ক্ষণই খাটতে চায়। তবে কে কী ভাবে মস্তিষ্ককে খাটাবেন, তার উপরেও নির্ভর করবে তার উর্বরতা।
আরও পড়ুন:
একাগ্রতা বাড়িয়ে তুলতে, মনের উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে এবং বুদ্ধির গোড়ায় শান দিতে কী ধরনের কাজ মস্তিষ্ককে দিয়ে করাবেন?
১) ক্যালকুলেটর দূরে সরিয়ে মস্তিষ্ককে হিসাব করার প্রশিক্ষণ দিতে পারেন। তার জন্য খুব জটিল অঙ্কের সমাধান করার প্রয়োজন নেই। সহজ যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ কিংবা সরলীকরণ মস্তিষ্কের জন্য দারুণ কাজের।
২) শুয়ে শুয়ে একটানা ফোন না ঘেঁটে ‘রিভার্স কাউন্টিং’ অভ্যাস করা যেতে পারে। অর্থাৎ, এক থেকে একশো পর্যন্ত না গুনে একশো থেকে একে ফিরে আসতে হবে। কিন্তু তা একেবারে নির্ভুল হওয়া চাই।
৩) ছুটির দিন অনেকেই পছন্দের বই পড়েন। তবে মনে মনে পড়লে কিন্তু মস্তিষ্কে তার প্রভাব পড়বে না। মুখে আওয়াজ করে, দ্রুততার সঙ্গে নির্ভুল ভাবে পড়ার প্রশিক্ষণ দিতে হবে মস্তিষ্ককে। এই পন্থা একাগ্রতা বাড়িয়ে তুলতে সাহায্য করবে।
আরও পড়ুন:
৪) অবসর সময়ে ছবি আঁকতে পারেন। তার জন্য বিরাট আঁকিয়ে হওয়ার প্রয়োজন নেই। হাতের কাছে খাতা-পেন থাকলে মনের ভাব সেখানে ফুটিয়ে তুলতে পারেন। নকশা, আলপনা, গাছ, ফুল, লতাপাতা— যা খুশি আঁকা যেতে পারে।
৫) কোনও কারণ ছাড়াই পুরনো সিনেমা কিংবা দূরসম্পর্কের কোনও এক আত্মীয়ের নাম মনে করার নির্দেশ দিতে পারেন মস্তিষ্ককে। চেনা গানের লাইন থেকে পছন্দের যে কোনও একটি শব্দ বেছে নিন। ওই শব্দ দিয়ে অন্য কোনও গান ভাবতে চেষ্টা করুন।