সংস্কৃতি বদলের মধ্যে দিয়ে কী ভাবে বদলাচ্ছে বাংলা ভাষা, জানালেন আরজে রয়
নেটিবং–ইন্টারনেটে ডেটা-হপিং করা বং।
তারা কী দেখে? পোস্ট, রিল, শর্টস, অডিও স্টোরি–দুনিয়ার দুশো দেশের দৃশ্য দুশোকোটি!
বই শেষ হয়ে যায়, সিনেমা-গানও শেষ হয়, কিন্তু রিল আর শেষ হয় না। একেকটা রিলের আয়ু ২০-৩০ সেকেন্ড, রিল-গাড়ি চলতে থাকলে সময় দিব্যি কেটে যায়। ওদের জন্য বত্রিশআনা খাঁটি কথা, "জানার কোনো শেষ নাই।"
কিন্তু এই সব খাবারের মধ্যে বাংলা কিছু আছে, ভাই?
খুব একটা নাই। নাই, নাই ভয়, হবেই হবে…ক্ষয়? না, বাঙালিয়ানার ক্ষয় হয়তো হবে না, বরং বদলে যাবে অনেকটা। নেটিবংরা দেশ-দুনিয়ার খবর রাখছে আঙুলের ডগায়। তারা স্বজনে-ডেটা GBয়ে সারা দুনিয়ার রকম-সকমে অভ্যস্ত নতুন এক বাঙালিয়ানা তৈরি করছে। তাদের নিজেদের বয়ানেই পরিষ্কার, তারা বাংলা কন্টেন্টের চেয়ে না-বাংলা বিষয় বেশি পছন্দ করে। বাংলা সিরিয়াল তাদের চোখে মগনলাল মেঘরাজ, তাদের ফেলুদা হিন্দি বা ইংরেজি কন্টেন্ট। যারা অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির পড়ুয়া, মানে বয়স এখন ১৩-১৭, তারা বছর কয়েক আগেও দেখত শিনচ্যান, ডোরেমন। তাদের কাছে সেসব এখন অতীত, ওটিটি-ই বর্তমান। কার্টুন দেখে বাচ্চারা, ওরা দেখে অ্যানিমে। ভবিষ্যতের ধেড়ে বাঙালিরা এই খুদে বয়সে আজ যা যা দেখছে, সেটাই বছর দশেক পরে ওদের নিজেদের হাতে থাকা সমাজের একটা অংশের মানসিকতার দিশা দেখাবে। ওদের বাঙালিয়ানা তাই পাড়ার ঠেক, ক্লাবের আড্ডা, রবীন্দ্রসংগীত, বাংলা সিরিয়ালময় নয়, তাতে নিয়মিত মিশছে দুনিয়ার দুশো দেশের দৃশ্য-স্রোত। ওরা নেটিবং, ওরা প্রচণ্ডভাবে প্রভাবিত নানা দেশের সংস্কৃতির স্রোতে।
আর এই সংস্কৃতির বদলের মধ্যে দিয়েই খানিকটা বদলাচ্ছে বাংলা ভাষাও। শব্দ-জব্দ আর শব্দবাজির শব্দের খেলা নিয়ে আমরা বিভিন্ন জেলার স্কুলে স্কুলে গিয়ে, পড়ুয়াদের সঙ্গে কথা বলে এটাই বারবার টের পাচ্ছি–শুধু বাংলা ওদের আর টানে না। ওরা বই পড়ার চেয়ে রিলস-শর্টস দেখে বেশি। ওরা পড়ার চেয়ে দেখা-শোনা পছন্দ করে বেশি। শুধু বাংলার চেয়ে নানা স্বাদের খাবার ওরা দিব্যি GBয়ে GBয়ে খাচ্ছে। আর এভাবেই বাংলা ভাষা আর বাঙালিয়ানা বদলে বদলে যাচ্ছে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy