রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তী উপাচার্য শুভ্রকমল মুখোপাধ্যায়কে সরানোর দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের বিক্ষোভ শুরু হল বিশ্ববিদ্যালয়ের জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে। শুভ্রকমলকে সরিয়ে স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে সোমবারের পর মঙ্গলবারও বিক্ষোভ দেখান তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যেরা।
সোমবারের পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই রবীন্দ্রভারতীর জোড়াসাঁকো ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। বিক্ষোভরত পড়ুয়াদের অভিযোগ, সময়সীমা পেরিয়ে যাওয়ার পরেও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য হিসাবে কাজে আসছেন শুভ্রকমল। পড়ুয়াদের দাবি, বিভিন্ন ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্মে শৃঙ্খলা নষ্ট করছেন তিনি। এর পরেই স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন পড়ুয়ারা। উপাচার্যের ঘরে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন। পোস্টার, প্ল্যাকার্ড হাতে উপাচার্যের ঘরের সামনেই বসে পড়েছেন পড়ুয়াদের একাংশ। রবীন্দ্রভারতীর স্পেশ্যাল বিএড-এর প্রথম বর্ষের ছাত্রী ঈশানী ধরের কথায়, ‘‘আমরা চাই কোনও আইনজীবী নন, একজন শিক্ষাবিদ উপাচার্য হিসাবে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্বভার গ্রহণ করুন, যাতে আমরা আমাদের দাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে পারি।’’ রাজ্যপালের নিযুক্ত উপাচার্যের বেশ কিছু সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করছে বলেও দাবি পড়ুয়াদের।
প্রসঙ্গত, কর্নাটক হাই কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শুভ্রকমলকে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী উপাচার্য হিসাবে নিয়োগ করেন রাজ্যপাল সিভি আনন্দ বোস। তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সদস্যদের দাবি, উপাচার্য হওয়ার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) যে মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে, তা পূরণ করতে পারেননি শুভ্রকমল। তা সত্ত্বেও প্রাক্তন বিচারপতিকে উপাচার্যপদে বসানো হয়েছে। অথচ, অন্তর্বর্তিকালীন মেয়াদে ছ’মাসের বেশি তাঁর পদে থাকার কথা নয়। কিন্তু অভিযোগ, ২০২৩ সালে রাজ্যপাল তাঁকে উপাচার্যপদে নিযুক্ত করার পর থেকেই পদ আঁকড়ে রয়েছেন তিনি। অন্য দিকে, সোমবারের পর মঙ্গলবারও বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেননি শুভ্রকমল। তাঁর কথায়, ‘‘ক্যাম্পাসে যদি কাজ করার মতো স্বাভাবিক পরিস্থিতি থাকে, তা হলেই আসব।’’