Advertisement
E-Paper

আরজি কর আন্দোলনের তোড়ে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সদস্য বাড়াল এসএফআই, তবে সারা রাজ্যে বৃদ্ধি ৪৩২, বলছে তথ্যই

এ বার সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কয়েকটি ‘ক্লাস্টারে’ বিশেষ নজর দিয়েছিল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন। সেই তালিকায় ছিল উত্তরবঙ্গের চা বলয়, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, বীরভূমের ডেউচা-পাচামি বা ঝাড়গ্রামের আদিবাসী মহল্লা।

SFI membership has slightly increased in West Bengal

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৫ ১৮:১৪
Share
Save

গত শিক্ষাবর্ষে বাংলায় সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের সদস্যসংখ্যা ছিল ৮ লক্ষ ৩০ হাজার ৮৪৯। ২০২৪-’২৫ শিক্ষাবর্ষে সেই সদস্যসংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৮ লক্ষ ৩১ হাজার ২৮১। অর্থাৎ সারা রাজ্যে এক বছরে এসএফআইয়ের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি হয়েছে ৪৩২। তবে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে সদস্যসংখ্যা দ্বিগুণ করেছে সিপিএমের ছাত্র সংগঠন। এসএফআই প্রদত্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে তাদের সদস্যসংখ্যা ছিল কমবেশি এক হাজার। এ বার সেটা দু’হাজার ছাড়িয়েছে। তার সৌজন্যে যে আরজি কর আন্দোলনের ‘তোড়’, তা মানছেন এসএফআই নেতৃত্বও।

এসএফআই রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন দে-র বক্তব্য, ‘‘আগে কলকাতাকেন্দ্রিক মেডিক্যাল কলেজগুলিতেই সদস্য সংগ্রহ হত। কিন্তু এ বার তা জেলার মেডিক্যাল কলেজগুলিতেও সম্প্রসারিত করা গিয়েছে।’’ তবে এর উল্টো অভিমতও রয়েছে। যে অভিমত বলছে, আরজি কর আন্দোলন ছিল সার্বিক ভাবে ‘নাগরিক আন্দোলন’। তা শুধু মেডিক্যাল পড়ুয়াদের আন্দোলন ছিল না। সেই আন্দোলনে বামেরাও যুক্ত ছিল আগাগোড়া। কিন্তু সারা রাজ্যে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধিতে বিশেষ কোনও প্রভাব ফেলেনি ওই আন্দোলন। তা হলে বৃদ্ধির সংখ্যা ৪৩২-এর চেয়ে অনেক বেশিই হত। সারা রাজ্যে ৩৭টি মেডিক্যাল কলেজ রয়েছে। সেই হিসাবে দু’হাজার সদস্য সংগ্রহ বিরাট কোনও সংখ্যা নয় বলেই মত অনেকের। এসএফআইয়ের এক নেতার অবশ্য ব্যাখ্যা, ‘‘সাধারণ স্কুল বা কলেজ ছাত্রছাত্রীদের সংগঠনের সদস্য করা যতটা সহজ, মেডিক্যাল কলেজের ক্ষেত্রে তা নয়। তাই এই বৃদ্ধিই আমাদের কাছে ইতিবাচক।’’

এ বার সদস্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে কয়েকটি ‘ক্লাস্টারে’ বিশেষ নজর দিয়েছিল সিপিএমের ছাত্র সংগঠন। সেই তালিকায় ছিল উত্তরবঙ্গের চা বলয়, উত্তর ২৪ পরগনার সন্দেশখালি, বীরভূমের ডেউচা-পাচামি বা ঝাড়গ্রামের আদিবাসী মহল্লা। এই সমস্ত এলাকাতেই গত বারের থেকে উল্লেখযোগ্য ভাবে সদস্য সংগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে বলে দাবি এসএফআই নেতৃত্বের। বাঁকুড়াতেও সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে প্রায় ৩৫ শতাংশ। এসএফআইয়ের রাজ্য সম্পাদক দেবাঞ্জন জানিয়েছেন, ২০১১ সালের পর থেকে এ বারই প্রথম সন্দেশখালি কলেজ-সহ সংলগ্ন এলাকায় এসএফআই সদস্য সংগ্রহ করতে পেরেছে।

মঙ্গলবার সাংবাদিক সম্মেলন করে এসএফআই নেতৃত্ব জানিয়েছেন, শুধু উত্তর ২৪ পরগনা জেলাতেই তাঁদের সদস্যসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১০ হাজারের বেশি। অর্থাৎ, একটি জেলায় সদস্যসংখ্যা ১০ হাজার বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্য দিকে সারা রাজ্যে বৃদ্ধি মাত্র ৪৩২টি। সরল পাটিগণিত বলছে, এমন অনেক জেলা রয়েছে, যেখানে এসএফআইয়ের সদস্যসংখ্যা কমে গিয়েছে। সে বিষয়ে সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ব কিছু খোলসা করেননি। তবে সূত্রের খবর, বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের জেলা দক্ষিণ দিনাজপুরে ব্যাপক ভাবে কমেছে এসএফআইয়ের সদস্যসংখ্যা। আবার যে আরজি কর আন্দোলনের ‘উৎসস্থল’ ছিল কলকাতা, যেখানে লাগাতার নাগরিক আন্দোলন চলেছে, সেই কলকাতা জেলাতেও কমবেশি সদস্যসংখ্যা গত বারের থেকে ৮ শতাংশ কমে গিয়েছে। সার্বিক পরিসংখ্যান বলছে, মেডিক্যাল কলেজের বাইরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এসএফআইয়ের সদস্যসংখ্যা কমেছে। এসএফআইয়ের এক সদ্যপ্রাক্তন নেতার বক্তব্য, ‘‘গত লোকসভা ভোটে আরও একটি ধাক্কার পর সংগঠনের কাজ থমকে গিয়েছিল। আরজি কর আন্দোলন তাতে নতুন উদ্যম জুগিয়েছিল বটে, কিন্তু সার্বিক ভাবে তার ফসল ঘরে তোলা যায়নি।’’

SFI R G kar Incident

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or Continue with

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy

{-- Slick slider script --}}