নিহত মণীশ গুপ্ত। নিজস্ব চিত্র।
মহানন্দা নদীর পারে এক যুবককে কুপিয়ে খুনের অভিযোগ উঠল ৩ জনের বিরুদ্ধে। অভিযুক্তেরা সম্পর্কে তিন ভাই। রবিবার গভীর রাতের ঘটনা শিলিগুড়ির ৪২ নম্বর ওয়ার্ডের ভূপেন্দ্রনগর এলাকায়। নিহতের নাম মণীশ গুপ্ত (২২)। খুনের অভিযোগে ওই ৩ ভাইকে গ্রেফতার করেছে ভক্তিনগর থানার পুলিশ। ঘটনার তদন্ত চলছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম অঙ্কিত শর্মা, প্রভাত শর্মা ও রোহিত শর্মা। নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে মহানন্দা নদীর পারে অঙ্কিতকে ডেকে পাঠিয়েছিলেন মণীশ। সেখানে যাওয়ার পর মণীশের সঙ্গে তাঁদের বচসা বাধে। অভিযোগ, এর পর হাতাহতি শুরু হয়। মণীশকে সেখানেই ছুরি দিয়ে বেশ কয়েক বার আঘাত করা হয়। এর পর ঘটনাস্থল থেকে অঙ্কিতরা পালিয়ে যান বলে অভিযোগ। স্থানীয় কয়েক জন ঘটনার কথা জানতে পেরে পুলিশে খবর দেন। মণীশকে উদ্ধার করে নিয়ে যাওয়া হয় ভক্তিনগর থানার অন্তর্গত একটি বেসরকারি হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসকেরা মনীশকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগে ওই নার্সিংহোমে ভাঙচুর চালানো হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।
মণীশের বাবা জয়প্রকাশ গুপ্ত বলেন, ‘‘রাতে আমি খবর পাই ছেলেকে নার্সিংহোমে ভর্তি করানো হয়েছে। এসে দেখি সে মৃত! অথচ হাসপাতালে ডাক্তার নেই। চিকিৎসার গাফিলতির কারণেই মৃত্যু হয়েছে ওর। ওকে কেন ছুরি মারা হল তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছি না। আমি দোষী ৩ জনের শাস্তি চাই।’’ গুপ্ত পরিবার সূত্রে খবর, সম্প্রতি দু’টি বিষয় নিয়ে মণীশ এবং অঙ্কিতের মধ্যে বিবাদের সূত্রপাত। প্রথমত, মণীশের কাছ থেকে প্রায় ৩ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন অঙ্কিত। তা ফেরত দিচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ। দ্বিতীয়ত, মণীশের দাদা মনু গুপ্তের সঙ্গে অঙ্কিতের প্রেমিকার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তা নিয়ে দুই বন্ধুর মধ্যে বিবাদও হয়। তবে রবিবার দু’জনের মধ্যে কী নিয়ে বচসা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এ নিয়ে শিলিগুড়ির পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদী বলেন, ‘‘এমন ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। অভিযুক্ত ৩ জনকেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে।’’ বেসরকারি হাসপাতালে যাঁরা ভাঙচুর চালিয়েছেন, তাঁদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন অখিলেশ।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy