মালদহের ইংরেজবাজারের পুরপ্রধান কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরীকে ফোনে হুমকির ঘটনায় এক যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। ‘ডি কোম্পানি’র প্রদীপ বলে যে ব্যক্তি ফোন করেন শাহদাত শেখ। আদতে মালদেহর বাসিন্দা ওই যুবক কৃষ্ণেন্দুকে হুমকি ফোন করার জন্য কলকাতায় গিয়েছিলেন। ওই ঘটনায় মোট পাঁচ জনের যোগ রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। বাকি চার জনকে আটকও করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে এক জন বিহারের বাসিন্দা।
কৃষ্ণেন্দু অভিযোগ করেন, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ তিনি একটি মেসেজ পান। যিনি বার্তা পাঠিয়েছিলেন, তিনি নিজেকে ‘ডি কোম্পানি’র প্রদীপ বলে পরিচয় দিয়েছেন। তিনি বার্তায় লেখেন, ‘‘২০ পেটি দেনা হোগা আপকো, নেহি তো তুম অর তুমহারি ফ্যামিলি মেম্বার কো টোক দেঙ্গে।’’ বাংলায় তর্জমা করলে দাঁড়ায়, ‘‘আপনাকে ২০ পেটি দিতে হবে। নয়তো আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে গুলি করে দেব!’’ তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দেওয়ার পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন কৃষ্ণেন্দু। শুক্রবার ওই ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তিন জনকে আটক করে কালিয়াচক থানার পুলিশ। কিন্তু শনিবার সকাল পর্যন্ত কেউ গ্রেফতার না-হওয়ায় ক্ষুব্ধ হন মালদহ জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব।
আরও পড়ুন:
দুপুরে মালদহ জেলা পুলিশ জানায়, মূল অভিযুক্তকে তারা ধরে ফেলছে। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযুক্ত ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যানের পূর্বপরিচিত। ভয় দেখানোর জন্য ‘ডি কোম্পানি’ শব্দ ব্যবহার করে কৃষ্ণেন্দুর কাছ থেকে টাকা চেয়েছিলেন তিনি। তদন্তে জানা গিয়েছে, শুধুমাত্র ওই হুমকি-ফোন করতে তিনি কলকাতা গিয়েছিলেন। যাতে সহজে তাঁকে ধরা-না যায়, সে জন্য হিন্দিতে কথা বলেছিলেন। ওই ফোনের পর আবার মালদহে ফেরেন অভিযুক্ত। হুমকি-ফোনের জন্য আলাদা একটি সিম কার্ড জোগাড় করেছিলেন শাহদাত এবং তাঁর সঙ্গীরা।
এই ঘটনায় আরও চার জনকে পুলিশ আটক করেছে। এর মধ্যে বিহারেরও এক জন রয়েছেন। কিন্তু কেন এই কাজ করলেন ধৃত যুবক? জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, বাজারে প্রচুর টাকা দেনা রয়েছে শাহদাতের। তিনি দ্রুত প্রচুর টাকা জোগাড় করার জন্য তৃণমূলের প্রভাবশালী নেতা, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীকে হুমকি দেন।