দিলীপ ঘোষ।—ফাইল চিত্র।
স্বর্ণশিল্পীদের জন্য মুখ্যমন্ত্রী ইতিমধ্যেইর সোনার হাব গড়ার কথা ঘোষণা করেছেন। একধাপ এগিয়ে মেদিনীপুরে সোনা ও হিরের হাব তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেন দিলীপ ঘোষ। বিধানসভা ভোটের আগে মেদিনীপুরের স্বর্ণশিল্পীদের কাছে টানতে মরিয়া শাসক-বিরোধী দু’পক্ষই। তবে দুই মেদিনীপুরে সোনার কারিগরদের আধিক্য থাকলেও হিরের কারিগরের সংখ্যা প্রায় নেই বললেই চলে। ফলে সোনার হাব গড়ার ঘোষণা স্বর্ণশিল্পীদের উৎসাহিত করলেও হিরের হাব তৈরির প্রতিশ্রুতি সন্দেহ বাড়িয়েছে।
সোনার অলঙ্কারে হাতের কারুকাজের জন্য সারা দেশে কদর রয়েছে দুই মেদিনীপুরের স্বর্ণশিল্পীদের। বিশেষ করে পশ্চিম মেদিনীপুরের ঘাটাল, দাসপুর এবং পাশের জেলা হুগলির দক্ষ সোনার কারিগরদের দিকে ব্যবসায়ীদের বাড়তি নজর থাকে। কিন্তু রাজ্যে কাজ না থাকায় গুজরাত, মহারাষ্ট্র, সুরাত, হায়দরাবাদে সোনার কাজের জন্য কয়েক হাজার যুবক পাড়ি জমিয়েছেন। পশ্চিম মেদিনীপুরের পাশাপাশি পটাশপুর ও ভগবানপুরের প্রচুর যুবক ভিন্ রাজ্যে সোনার কাজ করছেন। ২০১৬ সালে নোট বাতিলে দেশের আর্থিক মন্দায় কাজ হারিয়ে কয়েক হাজার স্বর্ণশিল্পী গ্রামে ফিরে আসেন। অনেকে সোনার কাজ ছেড়ে আনাজ কিংবা চপ-মুড়ির দোকান খুলে সংসার চালাচ্ছেন। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের জেরে ফের কাজ হারিয়ে ঘরে ফিরে কয়েক মাস ধরে বসে রয়েছেন স্বর্ণশিল্পীরা। রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কেউ কেউ দিনমজুরের কাজ করছেন। কেউ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে সোনা নিয়ে বাড়িতে বসে মজুরিপ বিনিময়ে গয়না তৈরি করছেন। অভাবের তাড়নায় আনলক পর্বে ঝুঁকি নিয়েই ফের বহু স্বর্ণশিল্পী ভিন্ রাজ্যে পা বাড়িয়েছেন।
রাজ্যের সোনার কারিগরদের কথা ভেবে খড়গপুরে প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ঘাটালের দাসপুরে সোনার হাব গড়ার কথা ঘোষণা করেছিলেন। হাব তৈরির জন্য জায়গাও পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসন। কিন্তু এতদিনেও সেই কাজ খুব একটা এগোয়নি। বিধানসভা ভোটের আগে সেই সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি বিজেপি। সোমবার পটাশপুরে বিজেপির দলীয় সভা থেকে দিলীপ ঘোষ সোনা ও হিরের কারিগরদের জন্য মেদিনীপুরে সোনা ও হিরের হাব তৈরীর প্রতিশ্রুতি দেন। দিলীপ বলেন, ‘‘দুই মেদিনীপুর ও হুগলির যুবকদের দক্ষ স্বর্ণশিল্পী হিসেবে বিশ্বজুড়ে খ্যাতি রয়েছে।তাঁদের হাতের সোনা ও হিরের শৌখিন কাজের সকলে কদর করে। সেই সব লক্ষ লক্ষ যুবকদের পরিবার ছেড়ে রোজগারের জন্য ভিন্ রাজ্য যেতে হয়েছে। বিজেপি ক্ষমতায় এলে মেদিনীপুরে সোনা ও হিরের হাব তৈরি করা হবে। মেদিনীপুরের সোনার শিল্পীরা নিজের রাজ্যে কাজ করতে পারবেন।পরিবারের সঙ্গে থাকতে পারবেন।’’
তবে সূত্রের খবর, জেলায় স্বর্ণশিল্পী থাকলেও সেই অর্থে হিরের কারিগর নেই। ফলে হিরের হাব তৈরির প্রতিশ্রুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। মহারাষ্ট্রে কর্মরত পটাশপুরে এক স্বর্ণশিল্পী জয়দেব মান্না বলেন, ‘‘জেলায় সোনার হাব হলে বহু স্বর্ণশিল্পীর উপকার হবে। ভিন রাজ্যে গিয়ে রোজগারের জন্য পড়ে থাকতে হবে না। জেলায় কাজ করতে পারব। তবে হিরের হাব নিয়ে আমাদের সন্দেহ রয়েছে।’’
বিজেপির এমন প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভগবানপুরে তৃণমূল বিধায়ক অর্ধেন্দু মাইতি বলেন, ‘‘ভোটের আগে বিজেপির এ সব মিথ্যাচার মানুষ ভাল চেখে নেবে না।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy