প্রচারে পূর্ণিমা রানি দোলাই (বাঁদিকে)। নিজস্ব চিত্র।
অপত্য স্নেহের থেকে দলীয় কর্মীদের আবেগ গুরুত্বপূর্ণ। স্পষ্ট কথা মা পূর্ণিমা দোলুইয়ের। মেয়ে পম্পা মাইতিও স্পষ্ট বক্তা। তাঁর প্রচারের অন্যতম হাতিয়ার মায়ের দলের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় প্রমাণ অভিযোগ। মা-মেয়ের এমন আকর্ষণীয় লড়াইয়ের সাক্ষী পূর্ব মেদিনীপুরের একটি বুথ। এই বুথে মা ও মেয়ে লড়ছেন তৃণমূল আর বিজেপির হয়ে।
জেলার খেজুরি-২ ব্লকের দেখালি অঞ্চলের হলুদবাড়ির ১৫৭ নম্বর বুথ। এই বুথে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী পূর্ণিমা দোলুই। একই বুথে তাঁর মেয়ে পম্পা মাইতি লড়ছেন বিজেপির টিকিটে।
পূর্ণিমা পোড় খাওয়া রাজনীতিক। বাম জমানায় ২০০৩ সালে সিপিএমের হয়ে বর্তমান বুথেই প্রার্থী হয়েছিলেন। জিতেও ছিলেন। কিন্তু পরে তৃণমূলে যোগ দেন। এবার সেই পূর্ণিমাকেই প্রার্থী করেছে তৃণমূল। পূর্ণিমা যেদিন মনোনয়ন জমা দেন তার আগেই ওই বুথের বিজেপি প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন মেয়ে পম্পা। মায়ের বিরুদ্ধে বাড়ি বাড়ি প্রচারে নেমেছেন তিনি। মায়ের দল তৃণমূলের বিরুদ্ধে প্রচারে দুর্নীতি আর অনুন্নয়নের সুর চড়াচ্ছেন মেয়ে।
শুক্রবার বিকেল নাগাদ একই পাড়ায় প্রচার করছিলেন মা আর মেয়ে। দুই প্রার্থীর প্রচারে হাজির তৃণমূল আর বিজেপি কর্মীরাও। তৃণমূল প্রার্থী বলছেন, "রাজ্য সরকারের প্রকল্পগুলিকে হাতিয়ার করে প্রচার চালাচ্ছি। মানুষের কাছ থেকে খুব ভাল সাড়া পাচ্ছি। জেতার ব্যাপারে ১০০ শতাংশ আশাবাদী।’’ কিন্তু, বিপক্ষে তো বিজেপির প্রার্থী মেয়ে! প্রশ্ন শুনেই তৃণমূলের প্রার্থী বলছেন, "মেয়ে তো বাড়িতে। রাজনীতির ময়দানে আমার লড়াই বিজেপির সঙ্গে। এতে মা-মেয়ের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না।’’
বিজেপি প্রার্থী পম্পা মাইতি বলেন, "তৃণমূলের আমলের দুর্নীতি আর অপশাসনের বিরুদ্ধে প্রচার চালাচ্ছি। যেখানেই যাচ্ছি মানুষ আমাকে দু’হাত তুলে আশীর্বাদ করছেন। আমরাই জিতব।’’ মায়ের বিরুদ্ধে লড়াই কতটা কঠিন? প্রশ্নের জবাবে মেয়ে বলছেন, ‘‘এটা রাজনীতির লড়াই।’’
পূর্ব মেদিনীপুর তৃণমূলের খাস তালুক হিসেবে পরিচিত। রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী নিজের জেলাও বটে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের মনোনয়ন পর্ব থেকে নানা কারণে বারবার শিরোনামে থেকেছে এই জেলা। ২০১৮ সালে পঞ্চায়েত নির্বাচনে দেখালি থেকে তৃণমূল প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়লাভ করেছিলেন। তবে স্থানীয় সূত্রে খবর, খেজুরির হলুদবাড়ি অঞ্চলে গত বিধানসভা ভোটে এগিয়েছিল বিজেপি। দেখালি ১৫৭ নম্বর বুথেও শাসক দলের তুলনায় এগিয়েছিল বিজেপি। আগেই পঞ্চায়েত ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়েছিলেন মেয়ে পম্পা মাইতি। তা জানার পরেও কী ভাবে মেয়ের বিপক্ষে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন? এ প্রসঙ্গে তৃণমূলের প্রার্থী বলছেন, ‘‘দল আমাকে প্রার্থী হিসেবে চেয়েছে। দলের কর্মীদের আবেগ তো আর ফেলে দিতে পারি না।’’
পম্পার বাপের বাড়ি আর শ্বশুরবাড়ি ঢিল ছোড়া দূরত্বে। দুই পরিবারই চাষবাস নির্ভর। পরস্পরের বিরুদ্ধে প্রচার চালালেও মা মেয়ের সম্পর্কে চিড় ধরেনি। দু’জনেই তাঁদের স্বামীকে পাশে পেয়েছেন। কিন্তু দোটানায় প্রতিবেশীরা। ভোট কাকে দেবেন? ঘরের মেয়েকে নাকি পাড়ার বউমাকে? তাঁদের ভোটে জিতবেন কে? মায়ের রাজনীতির আবেগ নাকি মেয়ের শাসক দলের অপশাসনের বিরুদ্ধে লড়াই!
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy