বিধানসভায় বাজেট আলোচনা বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়ে চাকদহের বিজেপি বিধায়ক বঙ্কিম ঘোষের একটি মন্তব্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, যা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল রাজ্য বিজেপিকে। তার পরেই জল্পনা ছড়ায় যে, বঙ্কিম তৃণমূলে যোগ দিতে পারেন। শুক্রবার অবশ্য তেমন সম্ভাবনার কথা খারিজ করে দিয়েছেন তিনি। আনন্দবাজার ডট কম-কে তিনি বলেন, “তৃণমূল চার বার আমার বাড়ি ভাঙচুর করেছে। প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায় আমাকে মারধর করে চরম অপমান করেছে। তাই এমন অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি, কোনও দিন ওই দলে আমার মতো অত্যাচারিত, নির্যাতিত মানুষ যোগদান করতে পারবে না।”
তাঁর ‘বেসুরো’ মন্তব্য নিয়ে বিতর্ক শুরু হওয়ার পর বৃহস্পতিবার রাতেই রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দীর্ঘ ক্ষণ ফোনে কথা বলেন তিনি। বিজেপির পরিষদীয় দল সূত্রে খবর, শুভেন্দুকে বঙ্কিম জানান, সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্যের বিকৃতি ঘটিয়ে অযথা বিতর্ক সৃষ্টি করছে। দলের অবস্থানবিরোধী কোনও মন্তব্য তিনি করেননি। ওই সূত্রের খবর, বঙ্কিমের কথা শোনার পর তাঁকে এই বিষয়ে দুশ্চিন্তা করতে নিষেধ করেন শুভেন্দু।
শুক্রবার বঙ্কিম তাঁর আগের দিনের মন্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “আমি বলেছিলাম গত চার বছরে বিরোধী দলনেতা-সহ আমাদের বার বার সাসপেন্ড করেছেন স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়। কথা বলতে গেলে বিধানসভার কার্যবিবরণী থেকে আমাদের বক্তব্য বাদ দিয়ে দেন তিনি। আর রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনও কথা বললে অধিবেশনে তৃণমূল বিধায়কেরা আমাদের দিকে তেড়ে আসেন। এমনকি অধিবেশনে বিজেপি বিধায়কদের ধরে মারা পর্যন্ত হয়েছে। মার খেয়েও আমরাই সাসপেন্ড হয়েছি। স্পিকারের কারণেই যে আমরা স্বাস্থ্য এবং শিক্ষা সংক্রান্ত বাজেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করতে পারিনি, সে কথাই আমি বলতে চেয়েছিলাম।”
বৃহস্পতিবার বিধানসভার অধিবেশন শুরু হওয়ার পর থেকেই হইহট্টগোল করে বিক্ষোভ দেখান বিজেপি বিধায়কেরা। স্পিকার বিমানের বিধানসভা কেন্দ্র বারুইপুর পশ্চিমে বুধবার রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে গিয়ে বিজেপি বিধায়কেরা আক্রান্ত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, বিরোধী দলনেতার গাড়ির উপরেও হামলা হয়েছে। তার প্রতিবাদেই বিধানসভা থেকে ওয়াকআউট করেন বিজেপি বিধায়কেরা। সেই বিক্ষোভে শামিল হয়েও বিজেপির অধিবেশন বয়কটের সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের মত পোষণ করেন বঙ্কিম। তিনি বলেছিলেন, ‘‘বাজেট অধিবেশনে স্বাস্থ্য দফতর বা শিক্ষা নিয়ে যে আলোচনা হল, সেখানে আমরা থাকতে পারলাম না। আমরা বয়কট করে বেরিয়ে এলাম। আমি বলব, এটা আমাদের ভুলই হয়েছে।’’
বঙ্কিমের এ হেন মন্তব্যে যে তাঁদের সমর্থন নেই, তা বৃহস্পতিবারই বুঝিয়ে দেন বিজেপির পরিষদীয় দলের মুখ্য সচেতক শঙ্কর ঘোষ। তিনি জানান, শাসকদলের মোকাবিলা করার এই কৌশল নিয়েছে বিজেপির পরিষদীয় দলই। অন্য দিকে, বিধানসভার অধিবেশনের শেষ লগ্নে স্পিকার নাম না-করে বঙ্কিমের মন্তব্যের প্রশংসা করেন। বলেন, ‘‘আমি শুনলাম, বিরোধী দলের এক জন সদস্য বিধানসভার আলোচনায় যোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। আমরা তাঁর মন্তব্যকে স্বাগত জানাই। আগামী দিনে তাঁরা যাতে সব আলোচনায় যোগ দেন, আমরা সেই প্রত্যাশাই করব।’’