শিলংয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামের বাইরে মঙ্গলবার রাতে কনকনে ঠান্ডার মধ্যেও বছর দশেকের ছেলেকে নিয়ে থমথমে মুখে দাঁড়িয়েছিলেন ডেভিড মিং। কাঁধে জাতীয় পতাকা। খেলা শেষ হয়ে গিয়েছে প্রায় ঘণ্টাখানেক আগে। তবুও বাড়ি ফেরার কোনও তাগিদ নেই।
এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বের প্রথম ম্যাচে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে ড্র কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না ডেভিড। বললেন, ‘‘ভাগ্য ভাল আমরা হেরে যাইনি। ভারতীয় দলের এ রকম হতশ্রী খেলা খুব কম দেখেছি।’’
বাংলাদেশের সঙ্গে ড্রয়ের পরে শুধু সমর্থকরাই নন, প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ মানোলো মার্কেসও। সাংবাদিক বৈঠকে ভারতীয় দলের কোচ বললেন, ‘‘আমি শুধু হতাশ নই, প্রচণ্ড ক্ষুব্ধও। সৌভাগ্য যে আমরা গোল খাইনি। এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পেরেছি।’’ যোগ করলেন, ‘‘আমার কোচিং জীবনের এটাই সব চেয়ে কঠিন সাংবাদিক বৈঠক। আমরা জঘন্য খেলেছি। দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু জেতার জন্য তা যথেষ্ট ছিল না।’’
খেলা শুরু হওয়ার ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই গোলরক্ষক বিশাল কেথের মারাত্মক ভুলে ভারত পিছিয়ে পড়তে পারত। বাংলাদেশের মহম্মদ মজিবর ফাঁকা গোলে বল ঠেলতে না পারায় রক্ষে। সাংবাদিক বৈঠকে বিশালের ভুলের প্রসঙ্গ উঠতেই মানোলো বলে দিলেন, ‘‘এই বিষয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাই না।’’ ভারতীয় দলের কোচ উচ্ছ্বসিত একমাত্র লিস্টন কোলাসোকে নিয়ে। বললেন, ‘‘বাঁ-প্রান্তে লিস্টন ইতিবাচক ফুটবল খেলেছে। যদিও তা যথেষ্ট নয়।’’
এএফসি এশিয়ান কাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে ভারতের পরের ম্যাচ হংকংয়ের বিরুদ্ধে আগামী ১০ জুন। সুনীলরা সিঙ্গাপুরের মুখোমুখি হবেন আগামী ৯ অক্টোবর। বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচ ১৮ নভেম্বর। প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের ধাক্কা সামলে ভারতীয় ঘুরে দাড়াতে পারে কি না, এখন সেটাই দেখার।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)