পেটে ব্যথা, গা বমি বমি, স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ট্যাম্পন বদলানো— মাসের ৩-৫ দিন নাজেহাল হয়ে যান মহিলারা। হাজার রকম সুবিধার পরেও মর্ত্যে এমন হাল, মহাশূন্যে থাকলে কী হত!
সুনীতা উইলিয়ামসের মতো কত মহিলাই তো মাধ্যাকর্ষণের টান উপেক্ষা করে মহাশূন্যে বাস করেছেন মাসের পর মাস। ১৯৬৩ সালে ভ্যালেন্টিনা তেরেশকোভা প্রথম মহিলা যিনি মহাকাশে যান। তার পর আরও ৯৯ জন তাঁর পদাঙ্ক অনুসরণ করেছেন। সেখানকার জীবনযাত্রা সম্পর্কে জানলে আঁতকে উঠতে হয়। সেখানে ঋতুকালীন এই সমস্ত সমস্যার সমাধান মেলে কী করে? মহিলা মহাকাশচারীরা স্বল্প মাধ্যাকর্ষণ শক্তিতে ঋতুস্রাব সামলান কী ভাবে?
অনেকেরই ধারণা, অন্য সব কিছুর মতোই মাধ্যাকর্ষণ টানের অভাবে স্রাব নীচের দিকে নামে না। কিন্তু এমন কোনও তথ্য মহাকাশচারীদের থেকে কখনও মেলেনি।

মহাকাশচারী সুনীতা উইলিয়ামস। ছবি: সংগৃহীত।
নাসার এক মহিলা মহাকাশচারী, রিয়া সেডন এই বিষয়ে অনেক আগে বলেছিলেন, ‘‘যত ক্ষণ না পর্যন্ত সমস্যায় পড়ছেন, তত ক্ষণ এটিকে সমস্যা বলে মনে করলে চলবে না। যদি কেউ মহাকাশে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন, তা হলে তাঁকে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনা যাবে। তখন সেটিকে সমস্যা হিসেবে দেখব।’’
আরও পড়ুন:
পৃথিবীতে যেমন ভাবে ঋতুস্রাব হয়, মহাশূন্যেও সেই ভাবেই হয়। যদি কেউ মাইক্রোগ্র্যাভিটির কথা ভেবে মাসিকের সময় পিছিয়ে দিতে চান, সেটিও করতে পারেন ওষুধ খেয়ে। প্যাড, ট্যাম্পন, কাপ নিয়ে মহাকাশযানে চড়তে না চাইলে, অথবা ব্যথা সহ্য না করতে চাইলে, কিংবা জলের অভাবের চিন্তায় অনেকেই হরমোনাল ওষুধ খেয়ে নেন। সেই সমস্ত ওষুধে ইস্ট্রোজেনের উপস্থিতি থাকায় মাসিকের সময় পিছিয়ে যায়। কিন্তু যদি অনেক দিনের মিশন থাকে, তা হলে স্বাভাবিক নিয়মের সঙ্গে চলতেই বাধ্য হন তাঁরা। সে ক্ষেত্রে পৃথিবীর মতোই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়। সেই সব পণ্যই ব্যবহার করতে হয়।
সুতরাং, আকাশ, মাটি বা জল, মহিলারা যেখানেই থাকুন না কেন, ঋতুস্রাব নিজের নিয়ম মতোই চলে। আর স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে একই ভাবে সতর্কতা অবলম্বন করতে হয় মেয়েদের। প্রবাহ চলবে প্রবাহের মতো, মেয়েরা চলবে মেয়েদের মতো।