মাথা থাকলেই মাথাব্যথা হয়, এ আর নতুন কথা কী! কিন্তু মাথাব্যথা যদি ক্রনিক হয়ে যায়, তা হলেই মুশকিল। ধরুন, ঘুম থেকে উঠলেন, তার পরেই দেখলেন মাথার দু’পাশে তীব্র যন্ত্রণা হচ্ছে। আবার অফিসে কাজের মাঝেও দপদপ করতে থাকে মাথা। কখনও মনে হয়, মাথার পিছন থেকে ঘাড় অবধি ব্যথা নামছে, সেই সঙ্গে চোখেও ঝাপসা দেখছেন। এমন সব উপসর্গ দেখা দিলে এড়িয়ে না যাওয়াই ভাল। অনেকেরই মনে হতে পারে, মাইগ্রেন বা সাইনাসের কারণে ব্যথা অথবা ক্লান্তির জন্য এমন হচ্ছে। আসল কারণ কিন্তু তা না-ও হতে পারে।
মাথাব্যথা মানেই মাইগ্রেন নয়। হাইপারটেনশন বা উচ্চ রক্তচাপের কারণেও কিন্তু মাথাব্যথা হতে পারে। সাধারণ মাথাব্যথার থেকে হাইপারটেনশনের কারণে হওয়া মাথাব্যথার লক্ষণ কিছু আলাদা। সেই উপসর্গগুলি চিনতে পারলে, রক্তচাপের হেরফের হচ্ছে কি না, তা-ও সঠিক ভাবে বোঝা যাবে। ‘জামা’ মেডিক্যাল জার্নালে এই বিষয়টি নিয়ে একটি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছেন, রক্তচাপ বাড়লে মস্তিষ্কের রক্তজালিকাগুলিতে চাপ পড়ে। ফলে প্রদাহ তৈরি হয়।
কী কী লক্ষণ দেখা দেয়?
১) মাথার পিছন দিকে ও দু’পাশে একটানা ব্যথা হতে থাকবে। ঘুম থেকে উঠেও মাথাযন্ত্রণা হবে।
আরও পড়ুন:
২) মাথা খুব ভারী লাগবে। মাথার পিছন থেকে ঘাড় অবধি ব্যথা হবে।
৩) মাথার দু’পাশ দপদপ করবে, দৃষ্টিও ঝাপসা হতে পারে। চোখ দিয়ে জল পড়বে।
৪) মাথাব্যথার সঙ্গে বমিভাবও থাকতে পারে। ওষুধ খেয়েও ব্যথা কমবে না।
হাইপারটেনশন নিঃশব্দে হানা দেয় এবং আনুষঙ্গিক আরও নানা ব্যধিকে সঙ্গে নিয়েই আসে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) কিছু দিন আগেই জানিয়েছিল, এ দেশে মোট জনসংখ্যার অন্তত ৩৫ শতাংশই উচ্চ রক্তচাপের শিকার। বেশির ভাগেরই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে নেই এবং তার জন্য নিয়মমাফিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা চিকিৎসাও করান না অনেকেই। যে কারণেই আরও নানা শারীরিক সমস্যা তৈরি হয়।
ব্যথা কমানোর উপায় কী কী?
১) মাথাব্যথা শুরু হলে চুপ করে বসে ‘ডিপ ব্রিদিং’ করতে পারলে ভাল হয়। গভীর ভাবে শ্বাস টেনে ৫ সেকেন্ড ধরে রেখে ধীরে ধীরে আরও ৫ সেকেন্ড ধরে শ্বাস ছাড়তে হবে। টানা ২-৫ মিনিট করলে ব্যথা কমে যাবে।
২) এক গ্লাস ঈষদুষ্ণ জল বা হলুদ দেওয়া দুধ খেলেও উপকার পেতে পারেন।
৩) ঠান্ডা ও গরম সেঁক দিলে আরাম হবে। এক বার গরম ও এক বার ঠান্ডা, পর্যায়ক্রমে সেঁক দিতে হবে ১৫-২০ মিনিট।
৪) ল্যাভেন্ডার অয়েল বা রোজ়মেরি অয়েলের মতো এসেনশিয়াল অয়েলও মাথাব্যথা কমাতে পারে। গরম জলে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার অয়েল দিন। শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে সেই গন্ধ নিলে মাথাব্যথা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। সরাসরি রোজ়মেরি অয়েলের ঘ্রাণ নিতে পারেন। আবার, জলের মধ্যে দিয়ে গরম ভাপও নেওয়া যায়।