মুখে ব্রণ, রুক্ষ ত্বক— সমাধান হেঁশেলের উপকরণেই। সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলে ত্বকের হাজারো সমস্যার এমন সহজ সমাধানই পাওয়া যাচ্ছে। কেউ বলছেন ডিটক্স পানীয়ে লুকিয়ে ঝলমলে ত্বকের রহস্য, কেউ আবার নিদান দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর শট খাওয়ার। অনেকেই বলছেন, হলুদ জলের সঙ্গে গোলমরিচ মিশিয়ে খেলেই সেরে যাবে ব্রণ, উজ্জ্বল হবে ত্বক। বাস্তবে কি এমন উপকার মেলে?
গুরগাঁওয়ের ত্বকের চিকিৎসক মিক্কি সিং বলছেন, ‘‘হলুদ মিশ্রিত পানীয় এবং গোলমরিচের জল খেলেই মুখের ব্রণ সেরে যাবে, এ কথার কোনও বিজ্ঞানসম্মত ভিত্তি নেই।’’ হলুদে রয়েছে অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। গোলমরিচ হলুদের পুষ্টিগুণ শোষণে সহায়ক। তবে এই জল খেলে ব্রণের সমস্যার সমাধান হবে, এমনটা মানতে নারাজ তিনি।
আরও পড়ুন:
লিভার, পেটের সমস্যা, হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ব্রণ হয়। এ ছাড়াও ত্বকের ধরন তৈলাক্ত হলে, ত্বকে থাকা সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ছিদ্রের মুখ বন্ধ হলে ধুলো, ময়লা জমার ফলেও ব্রণ হতে পারে। মিক্কির কথায়, হরমোন, অতিরিক্ত তৈলক্ষরণ, ব্যাক্টেরিয়া সংক্রমণের মতো বিষয়গুলি থাকে ব্রণ হওয়ার নেপথ্যে। আর তার চিকিৎসায় প্রয়োজন হয় রেটিনয়েডস, বেঞ্জোল পারক্সাইড, স্যালিসিলিক অ্যাসিড এবং ক্ষেত্র বিশেষে খাওয়ার ওষুধ। এ ছাড়াও চিকিৎসার অন্যান্য ধরন রয়েছে। ফলে শুধুমাত্র কোনও পানীয় খেলেই ফল মিলবে, তা মনে করছেন না তিনি।
হলুদে রয়েছে কারকিউমিন। এই উপাদান অত্যন্ত উপকারী। এ ছাড়া এতে রয়েছে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি, অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। গোলমরিচেরও নানা রকম উপকারিতা রয়েছে। এতেও থাকে অ্যান্টি-অক্সিড্যান্ট, প্রদাহনাশক উপাদান।
মুম্বইয়ের ত্বকের চিকিৎসক শরিফা চসের বক্তব্য, অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি উপাদান থাকলেও এই পানীয় ব্রণ সারানোর জন্য ভাল, তা বলা যায় না। বরং ঘন ঘন এমন জল খেলে ত্বকে সমস্যাও হতে পারে। তিনি বলছেন, এই দুই উপাদান সরাসরি মুখে মাখাও ঠিক নয়। বিশেষত ব্রণ থাকলে এই ধরনের টোটকায় সমস্যা বাড়তে পারে।
একই সঙ্গে চিকিৎসকেরা সতর্ক করছেন, ত্বকের সমস্যায় এর-ওর কথা শুনে এটা-সেটা মাখা ঠিক নয়। ব্রণ বা ত্বকে সংক্রমণ হলে সরাসরি চিকিৎসকের দ্বারস্থ হওয়াই উচিত।