দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছেন রেখা গুপ্ত। তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিসভার সদস্য হিসাবে শপথ নিয়েছেন আরও ছ’জন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের মধ্যে দফতর বণ্টিত হল। পাঁচটি দফতর নিজের হাতে রাখলেন রেখা। উপমুখ্যমন্ত্রী প্রবেশ বর্মা পেলেন তিনটি দফতরের দায়িত্ব।
রেখার হাতে রয়েছে দিল্লির স্বরাষ্ট্র, অর্থ, পরিষেবা, পরিকল্পনা এবং সতর্কতা (ভিজিল্যান্স) দফতর। প্রবেশকে দেওয়া হয়েছে শিক্ষা, পূর্ত এবং পরিবহণ দফতর। এ ছাড়া, মনজিন্দর সিংহ সিরসা পেয়েছেন স্বাস্থ্য, নগরোন্নয়ন এবং শিল্প দফতরের দায়িত্ব। রবীন্দ্র কুমার ইন্দ্ররাজ দিল্লির সামাজিক সুরক্ষা, শ্রম এবং তফসিলি জাতি ও উপজাতি সংক্রান্ত দফতরের মন্ত্রী। জল, পর্যটন এবং সংস্কৃতি দফতরের দায়িত্ব পেয়েছেন কপিল মিশ্র। আশীষ সুদ পেয়েছেন রাজস্ব, পরিবেশ এবং খাদ্য ও নাগরিক সরবরাহ দফতর। পঙ্কজ কুমার সিংহকে দেওয়া হয়েছে আইন, আইন প্রণয়ন এবং আবাস (হাউজ়িং) দফতর। এ ছাড়া, যে দফতরগুলির মন্ত্রী নেই, সেগুলি রেখাই সামলাবেন।
আরও পড়ুন:
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে আপ প্রধান অরবিন্দ কেজরীওয়ালের ইস্তফার পর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন আতিশী। সে সময়ে তিনি পূর্ত, বিদ্যুৎ, শিক্ষা, উচ্চশিক্ষা-সহ মোট ১৩টি দফতর নিজের হাতে রেখেছিলেন। কেজরীর মন্ত্রিসভাতেও এই দফতরগুলির দায়িত্ব তাঁর হাতে ছিল। কেজরীওয়ালের হাতে নির্দিষ্ট কোনও দফতর ছিল না। তিনি সব দফতরের কাজই পরিচালনা করতেন।
কেজরীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন মণীশ সিসৌদিয়া এবং সত্যেন্দ্র জৈন। সত্যেন্দ্রের হাতে ছিল স্বরাষ্ট্র, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, জল, শিল্প, নগরোন্নয়ন, সেচ এবং খাদ্য নিয়ন্ত্রণ দফতর। মণীশ ছিলেন দিল্লির প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী। তিনি সামলাতেন অর্থ, শিক্ষা, পর্যটন, শ্রম, পূর্ত, পরিকল্পনা, ভিজিল্যান্স, পরিষেবা, সংস্কৃতি দফতর। কিন্তু দুর্নীতি মামলায় নাম জড়ানোর পর মণীশ এবং সত্যেন্দ্র মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছিলেন। তার পর এই দফতরগুলির দায়িত্ব গিয়েছিল আতিশীর হাতে।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশিত হয়েছে। ২৭ বছর পর রাজধানীতে ক্ষমতায় ফিরেছে বিজেপি। কেজরী, মণীশের মতো আপের মহারথীরা ভোটে হেরে গিয়েছেন। জিতে মান রেখেছেন কেবল আতিশী। বুধবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে রেখার নাম ঘোষণা করা হয়। বৃহস্পতিবার তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যেরা শপথ নিলেন।