সদ্য শেষ হয়েছে উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজের মহাকুম্ভ মেলা। দেশের নানা প্রান্ত থেকে ৫০ কোটিরও বেশি মানুষ ওই মেলায় গিয়েছিলেন। প্রয়াগরাজের ত্রিবেণি সঙ্গমে ডুব দিয়ে তাঁরা পুণ্য অর্জন করেছেন। ২০২৭ সালেই আবার কুম্ভমেলা হবে। এ বার আয়োজক শহর মহারাষ্ট্রের নাসিক। কেন মাত্র দু’বছরের মধ্যেই পরবর্তী কুম্ভমেলার আয়োজন করা হচ্ছে? দেশের চার শহরে কুম্ভমেলা হয়— প্রয়াগরাজ, হরিদ্বার, নাসিক এবং উজ্জয়িনী। প্রতিটি শহরে কুম্ভমেলা আয়োজনের পৃথক হিসাব রয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী নাসিকে পরবর্তী কুম্ভের বছর ২০২৭।
নাসিক এবং উজ্জয়িনীতে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয় ১২ বছর অন্তর। এই মেলাকে পূর্ণ কুম্ভমেলা বলা হয়ে থাকে। এর আগে গোদাবরী নদীর তীরে নাসিকে পূর্ণ কুম্ভমেলা হয়েছিল ২০১৫ সালে। সেই হিসাব অনুযায়ী, ১২ বছর সম্পূর্ণ হচ্ছে ২০২৭-এ। ওই বছর ১৭ জুলাই থেকে ১৭ অগস্ট পর্যন্ত কুম্ভমেলা চলবে। শিপ্রা নদীর ধারে উজ্জয়িনীতে শেষ বার কুম্ভমেলা হয়েছিল ২০১৬ সালে। ১২ বছরের হিসাব অনুযায়ী, সেখানে আবার পূর্ণকুম্ভ আয়োজিত হবে ২০২৮ সালে। অর্থাৎ, পর পর দু’বছর মহারাষ্ট্রে এবং মধ্যপ্রদেশে দু’টি কুম্ভমেলা হওয়ার কথা।
আরও পড়ুন:
প্রয়াগরাজ এবং হরিদ্বারের ক্ষেত্রে কুম্ভমেলার হিসাব কিছুটা আলাদা। এই দুই শহরে ১২ বছর অন্তর পূর্ণকুম্ভের পাশাপাশি ছ’বছর অন্তর একটি করে অর্ধ কুম্ভমেলারও আয়োজন করা হয়ে থাকে। সুতরাং, প্রয়াগরাজে পরবর্তী কুম্ভমেলাটি হবে আরও ছ’বছর পরে ২০৩১ সালে।
হরিদ্বারে শেষ বার কুম্ভমেলা হয়েছিল ২০২১ সালে। সেটি ছিল পূর্ণকুম্ভ। নিয়ম অনুযায়ী, হরিদ্বারেও ২০২৭ সালে একটি অর্ধ কুম্ভমেলার আয়োজন হওয়ার কথা। ২০২৭ সালে একই বছরে পর পর দু’টি কুম্ভমেলার আয়োজন করা হবে। যদিও এই দুই মেলা আয়োজনের সময় ভিন্ন। হরিদ্বারে সাধারণত এপ্রিল মাসে কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়। নাসিকে কুম্ভমেলার সময় জুলাই-অগস্ট। উজ্জয়িনীতেও কুম্ভমেলা হয় এপ্রিল মাসে।
পূর্ণ এবং অর্ধকুম্ভের বাইরেও একটি কুম্ভমেলা রয়েছে, যাকে বলা হয় মহাকুম্ভ। ১৪৪ বছর অন্তর সেই কুম্ভমেলার আয়োজন করা হয়। ১২টি পূর্ণ কুম্ভমেলা সম্পন্ন হলে ১৩তম পূর্ণকুম্ভটিকে মহা কুম্ভমেলা বলে উল্লেখ করা হয়। সম্প্রতি প্রয়াগরাজে সেই ১৩তম মহাকুম্ভের আয়োজন করা হয়েছিল। সেই কারণেই এই মেলার জনপ্রিয়তা এবং চাহিদা ছিল তুলনামূলক বেশি।