ঘরে ঢুকে এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা জওয়ানকে গুলিতে ঝাঁঝরা করল জঙ্গিরা। সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের কুলগামে জঙ্গি হামলার ঘটনার পরই উত্তেজনা ছড়িয়েছে এলাকায়। ঘটনায় মৃত অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানের স্ত্রী এবং কন্যাও জখম হয়েছেন বলে খবর। তাঁদের অবস্থা আশঙ্কাজনক চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে।
সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত অবসরপ্রাপ্ত জওয়ানের নাম মনজ়ুর আহমেদ ওয়াগে। বাড়ি কুলগামের বেঘিবাগে। সোমবার সকালে আচমকাই তাঁর বাড়িতে ঢুকে পড়ে একদল জঙ্গি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়তে থাকে তারা। জঙ্গিদের গুলিতে মৃত্যু হয় তাঁর। ওই সময় তাঁকে বাঁচাতে গিয়ে জখম হন মনজ়ুরে স্ত্রী এবং কন্যাও। তাঁদের গায়েও গুলি লাগে।
জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশের এক শীর্ষকর্তা হামলার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, এখনও পর্যন্ত ঘটনার দায় কোনও জঙ্গি সংগঠন স্বীকার করেনি। যে বা যারা এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে, তাদের খোঁজ চলছে। জঙ্গিদের খোঁজে তল্লাশি অভিযানও শুরু হয়েছে।
আরও পড়ুন:
গত এক বছরে বার বার জম্মু ও কাশ্মীরে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটেছে। দিন কয়েক আগেই জম্মু ও কাশ্মীরের সোপোরের জ়ালোরা গুজ্জরপতি এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের গুলির লড়াইয়ে এক জওয়ানের মৃত্যু হয়। সম্প্রতি গুলমার্গেও সেনার গাড়িতে হামলা চলেছিল। তাতে দু’জন জওয়ান এবং বাহিনীর দুই মালবাহকের মৃত্যু হয়েছিল। তার আগে সোনমার্গের কাছে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপরেও হামলা চালিয়েছিল জঙ্গিরা। এক চিকিৎসক-সহ সাত জনের মৃত্যু হয়েছিল ওই হামলায়। সোনমার্গের হামলার দায় স্বীকার করেছিল ‘দ্য রেজ়িস্ট্যান্স ফ্রন্ট’ নামে এক জঙ্গি গোষ্ঠী। পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তইবার প্রভাব রয়েছে এই নতুন জঙ্গি গোষ্ঠীতে। পর পর ঘটনাগুলি চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে নিরাপত্তা বাহিনী ও গোয়েন্দাদের কপালেও। জম্মু ও কাশ্মীরে বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে একের পর এক জঙ্গি কার্যকলাপের ঘটনা নিয়ে উদ্বিগ্ন জম্মু ও কাশ্মীরের নতুন সরকার এবং কেন্দ্রও।