চুলের ছাঁটে আপত্তি জানিয়ে এক দলিত পড়ুয়াকে লাঠি দিয়ে বেধড়ক মারধর করে দু’হাতই ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠল আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে। শুধু তা-ই নয়, পড়ুয়ার মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ। এমনকি, জাত তুলেও তাকে গালিগালাজ করা হয়েছে বলে অভিযোগ। গত ২৫ জানুয়ারি ঘটনাটি ঘটেছে উত্তরপ্রদেশের বুলন্দশহরে। শুক্রবার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। ওই দিন একটি মামলাও দায়ের হয়েছে আট শিক্ষকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই শিক্ষকদের গ্রেফতারের দাবি জোরালো হতে শুরু করেছে। স্কুলের প্রিন্সিপাল পুরুষোত্তম শর্মা জানিয়েছেন, এই ধরনের ঘটনা বরদাস্ত করবেন না স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত শিক্ষকদের ইতিমধ্যেই নিলম্বিত (সাসপেন্ড) করা হয়েছে। তাঁদের এই ঘটনার জবাবদিহি করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত পড়ুয়া দ্বাদশ শ্রেণির। এ বার বোর্ড পরীক্ষা ছিল তাঁর। পড়ুয়ার অভিভাবকদের অভিযোগ, তাঁদের পুত্রকে বোর্ডের পরীক্ষায় বসতে বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করেন অভিযুক্ত শিক্ষকেরা।
পুলিশ সূত্রে খবর, ঘটনার সূত্রপাত চুলের ছাঁট নিয়ে। চুলের ছাঁট পছন্দ না হওয়ায় পড়ুয়াকে প্রথমে জাত তুলে গালিগালাজ করা হয়। তার পর মারধর করে হাত ভেঙে দেওয়া হয়। মাথা ফাটানো হয়। পড়ুয়ার মাথায় বেশ কয়েকটি সেলাই পড়েছে বলে তার পরিবারের দাবি। ঘটনার দিন রক্তাক্ত অবস্থায় স্কুল থেকে ফেরত এসেছিল বলে দাবি পরিবারের। পড়ুয়ার পরিবারের আরও অভিযোগ, বিষয়টি যখন জানতে পারেন, তখন অভিযুক্ত শিক্ষকেরা পরিবারের সদস্যদের মুখ বন্ধ রাখার জন্য শাসান। সেই সময়ের জন্য চুপ করে থাকলেও পড়ুয়ার বোর্ডের পরীক্ষা শেষ হতেই পুলিশের দ্বারস্থ হয় পরিবার।