সব কিছু ঠিক থাকলে আসন্ন রামনবমীর মধ্যেই বিজেপির নতুন সর্বভারতীয় সভাপতির নাম ঘোষণা হতে পারে। অন্তত এমনই দাবি করছেন বিজেপির একটি শীর্ষ সূত্র। গত কাল নাগপুরে আরএসএস দফতরে নরেন্দ্র মোদী ও সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবতের বৈঠকের পরে ওই দাবি যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
এরই মধ্যে ওই বৈঠককে কটাক্ষ করে শিবসেনা নেতা (উদ্ধব) সঞ্জয় রাউতের মন্তব্য, ‘‘আসলে নিজের অবসর নেওয়ার কথা জানাতেই আরএসএস দফতরে গিয়েছিলেন মোদী।’’ যদিও সঞ্জয়ের দাবি নস্যাৎ করে বিজেপি নেতৃত্ব জানিয়েছেন, ২০২৯ পর্যন্ত মোদীই প্রধানমন্ত্রী থাকছেন। প্রয়োজনে ২০২৯ সালের লোকসভা ভোটেও মোদীই প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন।
কোনও নেতার বয়স ৭৫ বছর হয়ে গেলেই তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরিয়ে মার্গদর্শক মণ্ডলীর সদস্য করার নীতি নিয়েছেন বর্তমান বিজেপি নেতৃত্ব। সেই নীতি মানলে এ বছরের সেপ্টেম্বরে নরেন্দ্র মোদী ৭৫ বছরে পা দেবেন। লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকেই মোদী ৭৫ বছরে পা দিলে অবসর নেবেন কি না, সেই প্রশ্ন তুলে সরব ছিলেন বিরোধীরা। গত কাল নাগপুরে মোদী-ভাগবত বৈঠকের পরে সেই জল্পনা নতুন করে উস্কে দিয়েছেন শিবসেনা নেতা সঞ্জয় রাউত। তাঁর কথায়, ‘‘মোদী যে অবসর নিতে ইচ্ছুক, সে কথা জানাতেই গত কাল সঙ্ঘপ্রধানের সঙ্গে দেখা করেছিলেন মোদী। সেই কারণেই প্রধানমন্ত্রীর হওয়ার পরে এই প্রথম বার তাঁর আরএসএসের সদর দফতরে যাওয়া।’’
বিজেপি নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, ২০২৯ সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব সামলানোর পরে নিজের অবসরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী। তার আগে অবসরের কোনও সম্ভাবনাই নেই। বিষয়টি নিয়ে আজ মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দেবেন্দ্র ফডণবীস বলেন, ‘‘উত্তরসূরি নিয়ে জল্পনা অর্থহীন। মোদী আমাদের নেতা এবং তিনিই রাজ্যপাট সামলাবেন।’’ বিষয়টিতে মেরুকরণের হাওয়া দিয়ে দেবেন্দ্র বলেন, ‘‘মোগল সংস্কৃতিতে এমন হত। কিন্তু সনাতন সংস্কৃতিতে যখন পিতা বেঁচে থাকেন, তখন তাঁর উত্তরসূরি নিয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। এখন ওই বিষয় নিয়ে কথা বলার সময় আসেনি।’’ তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রয়োজনে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হতে পারেন মোদী।
আজ সঞ্জয় রাউত মোদীর অবসরের জল্পনা উস্কে দেওয়ার পাশাপাশি পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী মহারাষ্ট্র থেকে হবেন বলেও দাবি করেন। বলেন, ‘‘মোদীর উত্তরসূরি মহারাষ্ট্র থেকেই বেছে নেবেন আরএসএস নেতৃত্ব।’’ তিনি কোনও নাম না নিলেও, রাজনীতিকদের মতে, তাঁর ইঙ্গিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রী নিতিন গডকড়ীর দিকেই। বর্তমানে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যে মন্ত্রীরা রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে গডকড়ী হলেন আরএসএসের ঘরের লোক। শুধু তাই নয়, গডকড়ী বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও সুসম্পর্ক রেখে চলেন। এই সৌজন্য বর্তমান বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে ভীষণ ভাবে অনুপস্থিত। রাজনীতিকদের মতে, কৌশলে গডকড়ীকে সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রীর দৌড়ে তুলে ধরে তাঁর সঙ্গে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের যে মতপার্থক্য রয়েছে, তা খুঁচিয়ে দিতে চেয়েছেন সঞ্জয়। তবে আরএসএসের শীর্ষ নেতা ভাইয়াজি জোশী বলেছেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রীকে যে সরানো হচ্ছে বা হতে পারে এমন কোনও তথ্য আমার কাছে নেই।’’
তবে মোদী-ভাগবত বৈঠকে পরবর্তী বিজেপি সভাপতির নাম নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তা ঘরোয়া ভাবে মেনে নিচ্ছেন বিজেপি শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশ। সূত্রের মতে, বিষয়টি দীর্ঘ দিন ধরেই আটকে রয়েছে। দুই শিবিরের মতানৈক্য কাটাতে তাই একেবারে শীর্ষ নেতারাই বিষয়টি নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে সমাধানসূত্র খোঁজার চেষ্টা করেছেন। দলের মহারাষ্ট্রের এক নেতার কথায়, ‘‘গত কালের বৈঠকের পরে যা মনে হচ্ছে, তাতে সম্ভবত রামনবমীর মধ্যেই জেপি নড্ডার উত্তরসূরির নাম চূড়ান্ত হয়ে যাবে।’’
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)