মা হতে চলেছেন অনিন্দিতা রায়চৌধুরী। নতুন বছরের শুরুতেই সুখবর দিয়েছিলেন ছোট পর্দার অভিনেত্রী। সংসারে নতুন সদস্য আসতে আর বেশি দেরি নেই। মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে সন্তানের আগমন। তবে টানা আট মাস অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই ‘তেঁতুলপাতা’ ধারাবাহিকের শুটিং করেছেন তিনি। তবে এ বার কাজ থেকে মাতৃত্বকালীন ছুটি নিয়েছেন। তাই আপাতত ধারাবাহিকে দেখা যাবে না তাঁকে। চারপাশের মানুষের সহযোগিতাতেই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেও কাজ করতে পেরেছেন বলে আনন্দবাজার অনলাইনকে জানান অনিন্দিতা।
অনিন্দিতা বলেন, “তিন দিন হল ছুটি নিয়েছি। আসলে আর বেশি দিন বাকি নেই। বলা ভাল এক মাসও বাকি নেই। আমি অন্তঃসত্ত্বা অবস্থাতেই ‘তেঁতুলপাতা’ ধারাবাহিকের শুটিং শুরু করেছিলাম। টানা আট মাস শুটিং করার পিছনে আমার ইচ্ছেশক্তি তো আছেই। তবে তার সঙ্গে পরিবার, সঙ্গী, বন্ধুবান্ধব ও ধারাবাহিকের সেটের সকলকে পাশে পেয়েছি বলেই এটা সম্ভব হয়েছে। ধারাবাহিকের সেটে প্রত্যেকে আমার যথেষ্ট খেয়াল রেখেছেন। এটা না হলে আমি হয়তো এই আট মাসের সফরে ক্লান্ত হয়ে পড়তাম। বরং আমার কাজে যেতে ভাল লাগত।”
‘তেঁতুলপাতা’র সেটেই অনিন্দিতার সাধের আয়োজন করেছিলেন কলাকুশলীরা। সেই সব মুহূর্ত সমাজমাধ্যমে ভাগ করে নিয়েছেন অভিনেত্রী। ছিল খাওয়াদাওয়ারও এলাহি আয়োজন। অনিন্দিতার কথায়, “ঝুলনদি পাঁঠার মাংস আর মৌরলা মাছের ঝোল রান্না করে নিয়ে এসেছিল। এ ছাড়া ছিল সাদা পোলাও, শাক ভাজা, মোচার কাটলেট, চিনি ছাড়া কেক, ভেটকি মাছের পাতুরি, চাটনি, পায়েস, সাত রকমের মিষ্টি।”
বাবা হওয়ার জন্য প্রস্তুত সুদীপ। এমনিতেই দায়িত্বশীল, এই সময় তাঁর দায়িত্ববোধ যেন আরও বেড়ে গিয়েছে, জানালেন অনিন্দিতা। অভিনেত্রীর কথায়, “সুদীপ তো পাশে থেকেছেই। তার সঙ্গে আমাদের দু’জনের বাবা-মা, বন্ধুবান্ধব ও আমার দুই পোষ্য— প্রত্যেকে এই সময়টায় আমার সঙ্গে ছিল বলে এই সফর আরও মধুর হয়ে উঠেছে। এই সময়ে তো মেজাজের ওঠাপড়া লেগেই থাকে। আমার ক্ষেত্রেও হয়েছে। মতান্তরও হয়েছে। কিন্তু সবটাই যেন খুব স্বাভাবিক ভাবে ঘটেছে। বরং এই সময়ের প্রতিটা মুহূর্ত আমি উপভোগ করেছি।”
নতুন সদস্যকে দেখার জন্য পরিবারের সকলে উদ্গ্রীব হয়ে রয়েছেন। “এখন মনে হচ্ছে, দ্রুত সবটা হয়ে যাক”, উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে বলেন অনিন্দিতা। তবে কন্যাসন্তানের দিকে পাল্লা ভারী অনিন্দিতার পরিবারে। হাসতে হাসতে অভিনেত্রী বলেন, “আমি শুধু চাই আমার বাচ্চা যেন সুস্থ হয়। সে কন্যা বা পুত্র— যাই হোক। তবে বাবাদের ইচ্ছে থাকে, কন্যা হোক। সুদীপও চায়, কন্যা আসুক। বলা ভাল, পরিবারের অধিকাংশ মানুষই চান কন্যা হোক। আমার একটাই ইচ্ছে, সন্তানকে যেন সুস্থ ভাবে বড় করতে পারি।” আপাতত ছুটিতে থাকলেও, সন্তানের জন্মের পরে শীঘ্রই কাজে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে অনিন্দিতার।