পয়লা বৈশাখের আগে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের জন্য সুখবর। অবসরকালীন ‘ইউনিফায়েড পেনশন স্কিম’ বা ইউপিএসের নিয়মাবলি সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করল নরেন্দ্র মোদী সরকার। চলতি বছরের ১ এপ্রিল থেকে তা কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে পরিচালনকারী সংস্থা ‘পেনশন ফান্ড রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি’ (পিএফআরডিএ)। আপাতত এতে কেবলমাত্র কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীরা আবেদন করতে পারবেন, অন্য কেউ নয়।
বুধবার, ১৯ মার্চ ইউপিএস সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করে পিএফআরডিএ। গত বছরের অগস্টে এই প্রকল্পটির কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র। তখনই এতে বিনিয়োগের নিয়মকানুন জানিয়েছিল অর্থ মন্ত্রক। নতুন বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্পটি কার্যকর করার নিয়মে কোনও বদল হচ্ছে না। এতে লগ্নি করতে ইচ্ছুক কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের ১ এপ্রিল থেকে তিন মাসের মধ্যে আবেদন করতে হবে। অর্থাৎ ৩০ জুন পর্যন্ত এতে বিনিয়োগের জন্য আবেদনের সুযোগ পাবেন তাঁরা।
তবে যে সমস্ত কর্মচারী ছুটিতে থাকছেন এবং ১ এপ্রিলের পর কাজে যোগ দেবেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নিয়ম কিছুটা আলাদা। ইউপিএসে লগ্নির ব্যাপারে আবেদন করতে হলে এক মাস বা ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁদের। ১ এপ্রিলের পর নতুন নিয়োগপত্র প্রাপকদের ক্ষেত্রেও এই নিয়ম বলবৎ হবে।
বর্তমানে দেশে আরও দু’টি পেনশন প্রকল্প চালু রয়েছে। সেগুলি হল, ওল্ড পেনশন স্কিম (ওপিএস) এবং ন্যাশনাল পেনশন সিস্টেম (এনপিএস)। এই দু’টি প্রকল্পের বেশ কিছু দিককে একত্রিত করে ইউপিএস চালু করেছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মচারীদের পেনশন নিশ্চিত করাই এর মূল লক্ষ্য। অবসরের পর এতে আর্থিক স্থিতিশীলতা পাবেন তাঁরা।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এনপিএসের আওতায় থাকা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীরা অবশ্য ইউপিএসে লগ্নি করতে পারবেন। বিনিয়োগকারীর হঠাৎ মৃত্যু হলে তাঁর স্বামী বা স্ত্রী এই প্রকল্পের আর্থিক সুবিধা ভোগ করতে পারবেন।
ইউপিএস গ্রাহককে প্রতি মাসে তাঁর মূল বেতনের ১০ শতাংশ (নন-প্র্যাকটিসিং ভাতা-সহ) এবং তার উপর মহার্ঘ ভাতা সংশ্লিষ্ট তহবিলে জমা করতে হবে। এতে সম পরিমাণ অর্থ জমা করবে কেন্দ্রীয় সরকার। এতে লগ্নিকারীরা পেনশন তহবিলের ডিফল্ট প্যাটার্ন এবং ডিফল্ট বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন। এ ছাড়া গ্রাহক ১০০ শতাংশ বন্ডে বিনিয়োগ অথবা আংশিক ইক্যুইটিতে লগ্নির বিকল্প বেছে নিতে পারবেন।