আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সমস্ত দেশ থেকে আসা ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের উপরে ২৫% হারে আমদানি শুল্ক চাপিয়েছেন। পাল্টা পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। আবার আগামী এপ্রিলে ভারতের আরও কয়েকটি পণ্যের উপরে শুল্ক বসানোর সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। এই সমস্ত পদক্ষেপের প্রভাব গাড়ি শিল্পের উপরে কতটা পড়বে? এই প্রশ্নে বহুধা বিভক্ত সংশ্লিষ্ট মহল।
গাড়ি শিল্পের একাংশের মতে, ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামে আমেরিকার চড়া শুল্কের জেরে সারা বিশ্বে এই দুই কাঁচামালের চাহিদা ও জোগানের ভারসাম্য কিছুটা বিঘ্নিত হবে। তার প্রভাবের দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে। মূল্যায়ন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ডিরেক্টর পুনিত গুপ্ত যদিও বলছেন, ‘‘দেশীয় গাড়ি সংস্থাগুলির উপরে বড় কোনও প্রভাব পড়বে না। কারণ, গাড়ি তৈরির কাঁচামালের বড় অংশই আসে দেশের মধ্যে থেকে।’’ তবে তাঁর সংযোজন, ফোর্ডের মতো আমেরিকার সংস্থা ভারত-সহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সরাসরি পণ্য আমদানি-রফতানি করে। ভারতে তাদের গাড়ির দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
অন্য একটি অংশের আবার ব্যাখ্যা, বড় গাড়ি সংস্থাগুলি ছোট সংস্থার থেকে কাঁচামাল এবং যন্ত্রাংশ কেনে। এই ছোট সংস্থাগুলির অনেকে আবার বিদেশ থেকে কাঁচামাল নিয়ে আসে। শুল্ক যুদ্ধের বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে সেই সমস্ত কাঁচামালের দামে। সে ক্ষেত্রে দেশে গাড়ির দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। মারুতি সুজ়ুকি, টাটা মোটরস, হুন্ডাই এ ব্যাপারে মুখ খোলেনি। সূত্রের খবর, শুল্ক সংক্রান্ত নির্দেশ ও তার প্রভাব খতিয়ে দেখেই মন্তব্য করবে তারা।
তবে দেশের গাড়ি শিল্পের একটা বড় অংশ একমত, ট্রাম্পের চাপানো এই শুল্কে ক্ষতিগ্রস্ত হবে আমেরিকার গাড়ি সংস্থাগুলিই। কারণ ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম-সহ বিভিন্ন কাঁচামাল তারা ভারত-সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে। ফলে সে দেশে শীঘ্রই গাড়ির দাম বাড়তে পারে। ফোর্ডের সিইও জিম ফরলি অবশ্য সেই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়েছেন।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)