প্লাস্টিকের টোকেনের ব্যবহার ধাপে ধাপে বন্ধ করে দিতে চান মেট্রো কর্তৃপক্ষ। সেই লক্ষ্যে বুধবার থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোয় পরীক্ষামূলক ভাবে কাগজের কিউআর কোড-নির্ভর টিকিট কাটার ব্যবস্থা চালু হল। আপাতত শিয়ালদহ স্টেশন থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রোর অন্য স্টেশনগুলিতে সফর করতে এই টিকিট মিলবে। এ দিন শিয়ালদহ স্টেশনে এই ব্যবস্থার সূচনা করেন কলকাতা মেট্রোর চিফ অপারেশন্স ম্যানেজার সৌমিত্র বিশ্বাস।
নতুন ব্যবস্থায় মেট্রোর বুকিং কাউন্টারে নির্দিষ্ট স্টেশনের নাম বললে যাত্রীকে টোকেনের বদলে কাগজে ছাপানো কিউআর কোড দেওয়া হবে। ওই কাগজ স্টেশনের স্বয়ংক্রিয় গেটের সঙ্গে বসানো স্ক্যানারের সামনে আনলে যন্ত্র কোড পড়ে গেট খুলে দেবে। আবার নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে ওই কাগজ স্ক্যানারের কাছে আনলে একই ভাবে গেট খুলে যাবে। একটি কোড এক বারই ব্যবহার করা যাবে। কাগজে ছাপানো কিউআর কোডের ফোটোকপি দেখে যন্ত্র সাড়া দেবে না।
এই ব্যবস্থার কার্যকারিতা ছাড়াও ভিড়ের সময়ে যন্ত্র কী ভাবে কাজ করে, তা দেখতে চাইছেন মেট্রো কর্তৃপক্ষ। যাত্রীরাও নতুন ব্যবস্থাকে কী ভাবে গ্রহণ করছেন, তা দেখে নিয়ে ওই ব্যবস্থার ব্যাপক প্রয়োগের কথা ভাবা হয়েছে। চলতি বছরের মধ্যে উত্তর-দক্ষিণ মেট্রোতেও এই ব্যবস্থা চালু করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। শিয়ালদহ স্টেশনে আপাতত টোকেন ছাড়াও কাগজের কিউআর কোডযুক্ত টিকিটের ব্যবস্থা থাকবে। রেলের তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থা ক্রিস (সেন্টার ফর রেলওয়ে ইনফরমেশন সিস্টেম) এই ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
মেট্রোয় প্রতিদিন কয়েক হাজার টোকেন খোয়া যায় বলে অভিযোগ। ফলে বিপুল আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে মেট্রোর। কাগজের কিউআর কোড চালু হলে যা এড়ানো সম্ভব। ভবিষ্যতে মেট্রোর স্বয়ংক্রিয় টিকিট ভেন্ডিং মেশিন থেকেও এই টিকিট কেনা যাবে বলে জানিয়েছেন মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কৌশিক মিত্র।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)