সিউড়ি ১ ব্লকের নরসিংহপুরের বাসিন্দা গোবিন্দ মাহারা ও রবীন্দ্র মাহারা দুই ভাই। একই বাড়িতে থাকেন তাঁরা। স্বাভাবিক কারণেই দু’ভাইয়ের প্রচুর মিল। তবে দু’জনের একটি মিল এক দশক ধরে সমস্যায় ফেলেছে তাঁদের।
দু’ভাইয়েরই আধার নম্বর একই। এর জেরে দু’জনেরই রেশন বন্ধ হয়ে গিয়েছে, বাংলা আবাশ যোজনায় বাড়ির জন্যও আবেদন করতে পারছেন না তাঁরা। এমনকী, মোবাইলের সিম কার্ড কেনার ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে দু’জনকেই। ডাকঘরে গিয়ে আধার সংশোধনের জন্য লাইনও দিয়েছেন দু’জনেই। কিন্তু আধার নম্বর পরিবর্তনের এক্তিয়ার ওই ডাকঘরেরও নেই। ডাকঘর কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দিয়েছে, একমাত্র রাঁচি গিয়ে আধারের সদর দফতরে যোগাযোগ করলেই মিলতে পারে সমাধান সূত্র। এদিকে রাঁচি যাওয়ার সামর্থ্য নেই বলেই জানান দু’ভাই।
গোবিন্দ-রবীন্দ্রর আধার বিভ্রাট দশ বছর আগেই ঘটেছে। প্রথমে দু’জনের আধার কার্ডে এই নম্বরের মিলের বিষয়টি তাঁদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল। পরবর্তীকালে রেশন কার্ড ও আধার কার্ড সংযোগ এবং অন্যান্য সরকারি প্রকল্পে আবেদনের সময় বিষয়টি বুঝতে পারেন তাঁরা। তৎক্ষণাৎ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিকে বিষয়টি জানান তাঁরা। তাঁর উপদেশ মাফিক আধার সংশোধনের জন্য লাইনও দেন ডাকঘরে। কিন্তু সুরাহা হয়নি। এরপর বিষয়টি ধামাচাপা পড়ে যায়। কয়েকদিন আগে মুখ্যমন্ত্রী সকলের ভোটার কার্ড খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেন। সেইমতো পাড়ায়-পাড়ায় ভোটার কার্ড খতিয়ে দেখতে গিয়ে নরসিংহপুর এলাকায় তৃণমূলের প্রতিনিধিরা গেলে বিষয়টি ফের সামনে আসে।
রবীন্দ্র ও গোবিন্দ জানান, তাঁদের দু’জনের আধার নম্বর এক হওয়ায় কোনওরকম সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পাচ্ছেন না তাঁরা। এমনকী, তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও বন্ধ। সকলেই রাঁচি যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। কিন্তু তাঁদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। পঞ্চায়েত সদস্য ও তাঁর মারফত বিধায়ককেও বিষয়টি জানানো হয়েছে। কিন্তু দশ বছর ধরে সমস্যা একই রয়েছে।
এই প্রসঙ্গে জেলাশাসক বিধান রায় বলেন, “বিষয়টি আমি জানতাম না। জেলায় আধারের কাজের সঙ্গে যাঁরা যুক্ত আছেন অর্থাৎ ব্যাঙ্ক ও ডাকঘর কর্তৃপক্ষকে ডেকে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব। পাশাপাশি আধারের সঙ্গে সম্পর্কিত রেশন ও অন্যান্য পরিষেবার মতো বিষয়গুলিও যাতে অব্যাহত থাকে, তাঁর চেষ্টাও আমরা করব।”
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)