অনলাইনে ‘মিউটেশন’ তথা সম্পত্তির মালিকানার ক্ষেত্রে ‘নামজারি’-র শংসাপত্র দেওয়ার পরিষেবা চালু করেছে শিলিগুড়ি পুরসভা। অন্তত ছয় মাস পার হলেও অনেক ক্ষেত্রেই বাসিন্দাদের মিউটেশন আটকে পড়ছে বলে অভিযোগ। অভিযোগ, অনলাইনে মিউটেশন করাতে পারছেন না অনেকেই। পুরসভায় গিয়ে মিউটেশনের আবেদন করতে হবে বলা হলেও, তা করাতেও সমস্যার পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ।
পুরসভার ‘অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড মিউটেশন’ বিভাগের দাবি, অনলাইনে এখন শুধুমাত্র ‘ফুল মিউটেশন’ অর্থাৎ পুরো বাড়ি, জমি, দোকানের মালিকানার ক্ষেত্রে নামজারি করানো যাচ্ছে। কিন্তু বড় কোনও সম্পত্তির একটা অংশ কেনা, দানপত্রের ক্ষেত্রে অনলাইনে এখন আবেদন করা যাচ্ছে না। অথচ ফ্ল্যাট, দোকান সবই বড় ভবন বা আবাসনের অংশ হিসাবে বিক্রি হয়। তাই সে ক্ষেত্রে বাসিন্দারা অনলাইন পরিষেবার সুবিধা পাচ্ছেন না। কিন্তু এমন আবেদনকারীর সংখ্যাই বেশি।
শিলিগুড়ি পুরসভার সংশ্লিষ্ট বিভাগের মেয়র পারিযদ রামভজন মাহাতো বলেন, ‘‘অনলাইনে মিউটেশন শংসাপত্র দেওয়া চালু হয়েছে। তবে এখন শুধু ফুল মিউটেশন হচ্ছে। বাকিটাও দ্রুত যাতে অনলাইনে করা সম্ভব হয়, সেই প্রক্রিয়া চলছে।’’ তাঁর আশ্বাস, মার্চের পরে সমস্ত মিউটেশনই অনলাইনে করা যাবে। মিউটেশন করাতে সম্পত্তি কর এই সময় পর্যন্ত মিটিয়ে রাখা দরকার। সম্পত্তি কর নির্ধারণের সমীক্ষা চলছে। সে সব নিয়েও কিছু সমস্যা রয়েছে বলে অভিযোগ।
বাসিন্দাদের অনেকেই বিশেষ করে যাঁরা ফ্ল্যাট কিনবেন বা বিক্রি করবেন, তাঁরা অনলাইনে মিউটেশন করাতে বা করিয়ে দিতে না পারায় সমস্যার পড়েছেন। পুরসভায় সমস্যা জানাতে গেলে তাঁদের বলা হয়েছে, ‘অফলাইন’-এ আবেদন করতে হবে। সেই মতো নথিপত্র জমা দিলে, এমনকী মিউটেশন ফি জমা করার পরেও অনেকের মিউটেশন দেড়, দু’মাস আটকে থাকছে বলে অভিযোগ।
সমস্যার বিষয়টি পুর দফতরের তরফেও জানতে চাওয়া হয়। পুর কমিশনার শেরিং ওয়াই ভুটিয়া বলেন, ‘‘অনলাইনে সব মিউটেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। পুরো ব্যবস্থা অনলাইনে চালু করতে রাজ্য সরকারের কাছে দুই মাসের মতো সময় চাওয়া হয়েছে।’’
পুরসভার বিরোধী দলনেতা অমিত জৈন বলেন, ‘‘আমার কাছে দুই ব্যবসায়ী এসেছিলেন। তাঁরা মিউটেশন ফি জমা করার পরেও শংসাপত্র পেতে দুই মাস ধরে ঘুরছেন। পরে বোর্ডের সভায় তা জানানোর পরে তড়িঘড়ি তাঁদের মিউটেশন দেওয়ার ব্যবস্থা হয়।’’ একই সমস্যার কথা জানিয়েছেন বিরোধী তথা শিলিগুড়ি পুরসভার সিপিএমের পরিষদীয় নেতা মুন্সি নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘‘আমার কাছে দিন কয়েক আগে জনাপাঁচেক লোক এসেছিলেন। তাঁরা ফ্ল্যাটের মিউটেশন করাতে পারছেন না। তাঁদের পুরসভায় যোগাযোগ করতে বলেছি।’’
পুরসভা কর্তৃপক্ষের দাবি, অনলাইনে কাজের ক্ষেত্রে রাস্তার নাম, ব্যক্তির নাম-ঠিকানা সংক্ষেপে লেখায় সমস্যা হচ্ছে। বাড়ি বা জমির দলিলের মাঝের কয়েকটি পাতা অনলাইনে কেউ দেননি। সে সবের জেরেইসমস্যা হচ্ছে।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)