ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা বসানোয় দুর্নীতির অভিযোগ উঠল গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে। অভিযোগ, এই জন্য খরচ হয়েছে পৌনে দু’কোটি টাকা। ১৩ মার্চ বরাত পাওয়া ঠিকাদারকে বিলও মিটিয়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার তা প্রকাশ্যে আসতেই হইচই পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঘটনায় রাজনৈতিক চাপান-উতোরও শুরু হয়েছে মালদহে।
যদিও নিয়ম মেনে ই-টেন্ডার ডেকে ক্যাম্পাসে সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে বলে দাবি গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। তাঁদের দাবি, ছ’মাস আগে বিজ্ঞান বিভাগে প্রাক্তন ছাত্রের হাতে ছুরিকাহত হন স্নাতকোত্তরের এক ছাত্রী। পরে ছুরি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন প্রাক্তনী। সে সময়ই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে সিসি ক্যামেরা বসানোর পরিকল্পনা হয়। দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ দাস বলেন, “সিসি ক্যামেরার জন্য প্রয়োজন সার্ভার রুম। ইন্টারনেট সংযোগে ল্যানের প্রয়োজন। সে কাজের যাবতীয় হিসেব বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে আছে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ই-টেন্ডার ডাকা হলে ছয় জন ঠিকাদার আবেদন করেন। তাঁদের এক জনকে বরাত দেওয়া হয়েছে। দুর্নীতির ব্যাপার নেই।”
দেড় দশক আগে গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে ওঠে। কখনও ভবন নির্মাণ, কখনও সমাবর্তন, ইতিহাস কংগ্রেস অনুষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তদন্ত কমিটিও গঠন হয়। একাধিক শিক্ষক, আধিকারিক সাসপেন্ডও হন। তার পরেও ওয়াইফাই, ইন্টারনেট বসানো নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস জুড়ে ১২৮টি সিসি ক্যামেরা বসানো হয়। সেই কাজে ক্যামেরা বাবদ এক কোটি ৭২ লক্ষ এবং ল্যানের জন্য এক কোটি ৭০ লক্ষ টাকা খরচ দেখানো হয়। মাত্র ১২৮টি সিসি ক্যামেরাতেই পৌনে দুই কোটি টাকা খরচ—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের একাংশের দাবি, সিসি ক্যামেরার সঙ্গে সার্ভার বসানো হয়েছে। সেখানে যাবতীয় ফুটেজ সংগ্রহ করে রাখা হয়।
তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে বিজেপির দক্ষিণ মালদহের সভাপতি অজয় গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “গৌড়বঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে দুর্নীতি শব্দটি পরিচিত। তাতে জেলার তৃণমূলের নেতারাও জড়িত।” তৃণমূলের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সী বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যাপারে মন্তব্য করব না। বিজেপির সব কিছু নিয়ে নোংরা রাজনীতির জবাব মানুষই দেবেন।”
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)