Advertisement
E-Paper

মাস্টার প্ল্যানের কাজ চলছে, বন্যা রোধ বড় চ্যালেঞ্জ

বন্যা রোধে প্রাক্‌-বর্ষার এই প্রস্তুতি সেচ দফতরের রুটিন কাজ। তবে এ বার বাড়তি তৎপর সেচ দফতর।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

অভিজিৎ চক্রবর্তী

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৫ ০৮:৫৯
Share
Save

ঘাটালে বন্যা প্রতি বছরের ছবি। গরম পড়তে না পড়তেই তাই বন্যা মোকাবিলার প্রস্তুতি শুরু করতে হয়। এ বারও তা হচ্ছে। তবে এ বারের ছবিটা অনেকটাই আলাদা।

বন্যা মোকাবিলায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রূপায়ণে ইতিমধ্যে অর্থ বরাদ্দ করেছে রাজ্য সরকার। প্রাথমিক কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। বর্ষা নামতে নামতে মাস্টার প্ল্যানের কাজ বেশ খানিকটা এগিয়েও যাবে। ফলে, মাস্টার প্ল্যানের কাজের গতিপ্রকৃতি মাথায় রেখেই এ বার প্রাক্-বর্ষা বন্যা রোধের প্রস্তুতি হচ্ছে ঘাটালে। অন্য বছর এই প্রস্তুতি নেওয়া হয় বর্ষার মুখে, জুনের গোড়ায়। তবে এ বার মার্চ শেষ হতে না হতেই তৎপরতা শুরু হয়েছে।

ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের অধীনে স্লুইস গেটের কাজ এখন পুরোদমে চলছে। পাম্প হাউস তৈরির তোড়জোড়ও শুরু হয়েছে। বাকি খাল খনন বা শিলাবতীর জল যাতে ঘাটাল শহরে না ঢোকে, সেই লক্ষ্যে দেওয়াল তৈরির জন্য প্রয়োজনীর জমির মালিকদের সম্মতি আদায়ের প্রক্রিয়াও চলছে। পাশাপাশি আসছে বর্ষায় বাঁধ ভেঙে বা অন্য কোনও বিড়ম্বনায় যাতে বন্যা না হয়, তার আগাম প্রস্তুতিও শুরু করেছে সেচ দফতর। আগেভাগে মজুত করা হচ্ছে বাঁশ, কাঠের বোড়লি, মাটি, বস্তার মতো জরুরি সব উপকরণ।

বন্যা রোধে প্রাক্‌-বর্ষার এই প্রস্তুতি সেচ দফতরের রুটিন কাজ। তবে এ বার বাড়তি তৎপর সেচ দফতর। মাস্টার প্ল্যানের কাজ চলাকালীন যাতে বাঁধ ভেঙে নতুন করে ঘাটালের কোনও এলাকা প্লাবিত না হয়, সে জন্য অনেক আগেই কোমর বেঁধে নেমেছে তারা। দুর্বল হিসেবে চিহ্নিত স্থানে পর্যাপ্ত মাটি, ত্রিপল-সহ যাবতীয় সরঞ্জাম বেশি করে মজুত রাখা হচ্ছে।এপ্রিলের গোড়ায় তার টাকাও বরাদ্দ হয়েছে। জলসম্পদ ভবন থেকে বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে দেখা হচ্ছে বলে খবর। সেচমন্ত্রী মানস ভুঁইয়া বলেন, “বন্যার প্রাক্‌ প্রস্তুতি দফতর প্রতি বছর করে। রাজ্য জুড়ে নড়বড়ে বাঁধ মেরামতির কাজ চলছে। ঘাটালেও প্রাক্‌ প্রস্তুতি চলছে।”

ঘাটাল ও দাসপুর পুরো নদীবেষ্টিত এলাকা। ১৫২ কিলোমিটার দীর্ঘ নদীবাঁধ ঘাটালের বিস্তৃর্ণ এলাকা ঘিরে রেখেছে। বর্ষায় নদী-খালে জল বাড়লেই আশপাশের এলাকা প্লাবিত হয়। তবে দীর্ঘ বাঁধ ঘাটাল শহরের একাংশ এবং ঘাটাল, দাসপুরের একাশি মৌজাকে বন্যার হাত থেকে রক্ষা করে। তবে নদীর বিপুল জলরাশির চাপে বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রায় প্রতি বছরই নদীবাঁধ নড়বড়ে হয়ে পড়ে। বাঁধ ভেঙে প্লাবনও হয়। এ বার মাস্টার প্ল্যানের কাজ চলাকালীন এই বাঁধ রক্ষা সেচ দফতরের বড় চ্যালেঞ্জ।

সেচ দফতর জানিয়েছে, এমনিতে বর্ষার আগে দুর্বল নদীবাঁধগুলি সংস্কার করা হয়। এ বারও বিভিন্ন এলাকায় বাঁধ সারাই শুরু হয়ে গিয়েছে।শক্তপোক্ত করে বাঁধ বাঁধা হচ্ছে। কিন্তু তারপরেও বর্ষায় হঠাৎ করে শিলাবতী, রূপনারায়ণ, কংসাবতী-সহ বিভিন্ন বড় খালের বাঁধ ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি হলে কী করা হবে, তারও আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। অন্য বছর বাঁধ ভাঙার উপক্রম হলে তাড়াহুড়ো করে মাটি, বস্তা এনে তা সামাল দেওয়া হয়। কখনও আবার বাঁশ পুঁতে তার উপর মাটির বস্তা চাপানো হয়। তবে সব জায়গায় সরঞ্জাম মজুত রাখা থাকে,এমনটা নয়।প্রয়োজন হলে তখন আনা হয়। এ বার অবশ্য মাস্টার প্ল্যানের কথা মাথায় রেখে আগাম সক্রিয় সেচ দফতর। বার বার বাঁধ পরিদর্শন হচ্ছে। বাঁধ রক্ষার প্রয়োজনীয় সরঞ্জামও মজুত করা হচ্ছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ghatal

সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি:

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or Continue with

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy

{-- Slick slider script --}}