এক মহিলাকে যৌন নিগ্রহ এবং আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয় দেখানোর অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, সমরজিৎ দত্ত ওরফে টুবাই নামে ওই যুবককে একটি দেশি রিভলভার এবং একটি তাজা কার্তুজ-সহ ধরা হয়েছে। শনিবার সমরজিৎকে আদালতে তোলা হলে বিচারক ১০ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁকে জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। তবে গ্রেফতারির সময়ের ওই যুবকের একটি ভিডিয়ো নানা মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে রাজনৈতিক তরজা শুরু হয়েছে। ধৃত যুবক বিজেপি নেতা সজল ঘোষের ঘনিষ্ঠ বলে খবর।
সজলের দাবি, ওই যুবক তাঁর দীর্ঘ দিনের পরিচিত। বেলেঘাটার এক তৃণমূল নেতা রাজু নস্করের নাম করে সজলের পাল্টা অভিযোগ, তাঁর জমি দখল করে নেওয়ায় রাজুর বিরুদ্ধে সমাজমাধ্যমে লেখালেখি করছিলেন ওই যুবক। তাই তাঁকে ফাঁসাতে বন্দুক পেটের কাছে গুঁজে, হাত বেঁধে সাজিয়ে ওই ভিডিয়ো তোলা হয়েছে। রাজু যদিও অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, ‘‘কী ভাবে এ সব সাজাতে হয়, আমার জানা নেই।’’
পুলিশ সূত্রের খবর, ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার সন্ধ্যায়। আগ্নেয়াস্ত্র-সহ এক যুবককে আটক করার খবর পৌঁছয় বেলেঘাটা থানায়। পুলিশ গিয়ে সমরজিৎকে আগ্নেয়াস্ত্র-সহ গ্রেফতার করে। এর পরে ওই যুবকের নামে অভিযোগ করেন বেলেঘাটার বাসিন্দা এক মহিলা। তাঁর দাবি, তাঁকে যৌন নিগ্রহ করেছেন ওই যুবক। তাঁকে আগ্নেয়াস্ত্র দেখিয়ে ভয়ও দেখানো হয়েছে। এই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ফুটেজ এর পরে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, ধৃত যুবকের হাত পিছমোড়া করে বাঁধা। পরনের টি-শার্ট খানিকটা উপরের দিকে তোলা। দেখা যাচ্ছে, পেটের কাছে গোঁজা একটি রিভলভার। ভিডিয়োয় এক জনকে বলতে শোনা যায়, ‘‘মদ খেয়ে এখানে এসে নোংরামো করছিলি এ সব নিয়ে... সেই জন্য চড়-থাপ্পড় খেয়েছিস। সেই জন্য আমরা তোকে পুলিশের হাতে তুলে দিচ্ছি। আর এই সব মেশিন নিয়ে কোনও লোকাল পাড়ায় আসবি না ভুল করেও’’। ওই যুবক কলকাতা পুরসভার পুরপ্রতিনিধি তথা বিজেপি নেতা সজলের ঘনিষ্ঠ বলেও প্রচার করা হয়।
সজল শনিবার বলেন, ‘‘ছেলেটিকে দীর্ঘদিন থেকে চিনি। একটি আবাসনে সামান্য নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করে। জীবনে লাঠি ধরেনি, ও বন্দুক নিয়ে ঘুরবে! ওরা মা আর ছেলে থাকে। তবে ওর জমি বেলেঘাটার রাজু নস্কর নিয়ে নিয়েছে। তা নিয়ে ও প্রায়ই বলতে থাকে। সোশ্যাল মিডিয়াতেও লেখে। আমাকেও বহু বার বলেছে। আমি বিরক্ত হয়ে ওকে ব্লক করে দিয়েছি। কিন্তু এই ভাবে সবটা সাজিয়ে ফাঁসিয়ে দিল ছেলেটাকে! এই লড়াইয়ে পুরোপুরি ওর পাশে আছি।’’ তৃণমূল নেতা রাজু যদিও বলেছেন, ‘‘কী ভাবে সাজাতে হয়, আমার জানা নেই। শুধু এইটুকু বলব, সজলদার চৈতন্য হোক।’’
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)