প্রতীকী ছবি
ট্রেনে-বাসে যাত্রীর সঙ্গে আলাপ জমিয়ে, তাঁকে চা অথবা বিস্কুট খাইয়ে বেহুঁশ করার অভিযোগ নতুন নয়। কিন্তু হাসপাতালে রোগীর আত্মীয়ের সঙ্গে আলাপ জমিয়ে তাঁকে বেহুঁশ করে চুরি? সম্প্রতি এমনই একটি অভিযোগ জমা পড়েছিল ফুলবাগান থানায়। তার ভিত্তিতে তদন্তে নেমে গ্রেফতার করা হয়েছে এক যুবককে। ধৃতের নাম পলাশ রায়। তার বাড়ি পঞ্চসায়র থানা এলাকার শহিদ স্মৃতি কলোনিতে। পুলিশ জানিয়েছে, হাসপাতাল ও সংলগ্ন এলাকার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে এবং ওই আত্মীয়ের চুরি যাওয়া মোবাইলের নেটওয়ার্কের অবস্থান দেখে ধরা হয় পলাশকে। জেরায় সে দোষ স্বীকার করেছে বলে পুলিশের দাবি।
পুলিশ সূত্রের খবর, ন্যাজাট থানার বাসিন্দা পিন্টু সর্দার গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ফুলবাগান থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। তাতে তিনি জানান, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি তাঁর এক আত্মীয়কে দেখতে বাইপাসের ধারে এক হাসপাতালে গিয়েছিলেন। অপেক্ষা করার সময়ে এক যুবক নিজেকে আর এক রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে পিন্টুর সঙ্গে কথাবার্তা শুরু করে। পিন্টুও ওই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। অভিযোগকারীর দাবি, কিছু সময় পরে ওই যুবক তাঁকে একটি ক্রিম বিস্কুট খেতে দেয়। তিনি সেটি খান। তার পরে তাঁর কিছু মনে ছিল না। সাড়ে ১১টা নাগাদ জ্ঞান ফিরলে পিন্টু দেখেন, তিনি হাসপাতাল থেকে একটু দূরে ফুটপাতে পড়ে আছেন। সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে উধাও কয়েক হাজার টাকা, ইউরো, মোবাইল এবং কিছু কাগজপত্র। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, বিস্কুট খাওয়ার পরে তিনি অচৈতন্য হয়ে পড়েছিলেন।
তদন্তে নেমে হাসপাতাল এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে শুরু করে পুলিশ। দেখা হয় পিন্টুর চুরি যাওয়া মোবাইল ফোনের নেটওয়ার্কও। তাতেই পলাশের নাম জানা যায়। গত বুধবার গ্রেফতার করা হয় ওই যুবককে। সোমবার তার বাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে চুরি যাওয়া কিছু টাকা, ইউরো এবং মোবাইলটি।
পুলিশের দাবি, জেরায় পলাশ জানিয়েছে, সে পিন্টুর সঙ্গে আলাপ জমিয়ে তাঁকে যে ক্রিম বিস্কুট খেতে দিয়েছিল তার মধ্যে ১০টি ঘুমের ওষুধের ট্যাবলেট গুঁড়ো করে মিশিয়ে দেয়। তা খেয়ে পিন্টু বেহুঁশ হয়ে পড়লে তাঁকে রোগী হিসেবে ধরে নিয়ে পলাশ হাসপাতালের বাইরে আসে এবং কিছুটা দূরে নিয়ে গিয়ে ফুটপাতে ফেলে রেখে তাঁর ব্যাগ থেকে টাকা ও অন্য জিনিস নিয়ে চম্পট দেয়। তদন্তকারীদের দাবি, এর আগেও পলাশ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে জেরায় জানিয়েছে।
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy