হাসপাতালে চিকিৎসাধীন নিমাইবাবু। নিজস্ব চিত্র
গভীর রাতে এক বিজেপি কর্মীর বাড়িতে ঢুকে তাঁকে বেধড়ক মারধর করল জনা পনেরো সশস্ত্র দুষ্কৃতী। আগ্নেয়াস্ত্রের বাট দিয়ে মেরে তাঁর মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হয়। দুষ্কৃতীরা রেয়াত করেনি ওই বিজেপি কর্মীর স্ত্রীকেও। তিনিও প্রহৃত হন।
শুক্রবার চুঁচুড়ার ঘুটিয়াবাজারে এই ঘটনায় জখম, নিমাই দত্ত নামে পঞ্চাশোর্ধ্ব ওই বিজেপি কর্মীকে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। নিমাইবাবু এবং তাঁর দলের অভিযোগ, তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই ওই হামলা চালায়। হুমকিও দেয়। ঘটনার প্রতিবাদে এবং দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে শনিবার সকালে প্রায় আধ ঘণ্টা চুঁচুড়ার পিপুলপাতি মোড় অবরোধ করেন বিজেপি কর্মীরা। পুলিশ গিয়ে দুষ্কৃতীদের ধরার আশ্বাস দিলে অবরোধ ওঠে। পুলিশ জানায়, অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে তৃণমূল।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ খাওয়া সেরে ঘুমোতে যাওয়ার তোড়জোড় করছিলেন নিমাইবাবু। বাড়ির সদর দরজা খোলা ছিল। সেই সুযোগে প্রথমে চার-পাঁচ জন সশস্ত্র দুষ্কৃতী ঢুকে নিমাইবাবুকে মারধর শুরু করে। বাইরে থাকা আরও কিছু দুষ্কৃতী এর পরে হামলায় যোগ দেয়। মেঝেতে ফেলে তাঁকে লাথি, চড়, ঘুষি মারা হয় বলে অভিযোগ। ভয়ে তাঁর ছেলে এগোতে সাহস করেননি। নিমাইবাবুর স্ত্রী বাধা দিতে গেলে তাঁকেও ছাড়েনি দুষ্কৃতীরা। এরই মধ্যে এক দুষ্কৃতীর আগ্নেয়াস্ত্রের বাটের আঘাতে নিমাইবাবুর মাথা ফাটে। রক্ত ঝরতে দেখে তাঁর স্ত্রী চিৎকার করে ওঠেন। দুষ্কৃতীরা মোটরবাইক নিয়ে পালায়। পড়শিরা ঘটনাস্থলে আসেন। আসেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকেরাও।
নিমাইবাবুর অভিযোগ, ‘‘বিজেপি করার অপরাধেই তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আমার উপরে হামলা করল। আগেও কয়েকবার হামলা হয়েছে। কিছুদিন আগে বাড়িতে বোমা মেরে ওরা আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করেছিল।’’ বিজেপি নেতা স্বপন পাল বলেন, ‘‘এ ভাবে আমাদের আন্দোলন রোখা যাবে না। তৃণমূলের দলীয় কোন্দল ঢাকতেই আমাদের উপর হামলা করছে।’’
পক্ষান্তরে, তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্তের দাবি, পারিবারিক বিবাদের জেরেই আক্রান্ত হয়েছেন নিমাইবাবু। তিনি বলেন, ‘‘ওই ঘটনায় দলের কেউ যুক্ত নয়। মিথ্যা অভিযোগ করা হচ্ছে।’’
Or
By continuing, you agree to our terms of use
and acknowledge our privacy policy
We will send you a One Time Password on this mobile number or email id
Or Continue with
By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy