কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে এবং অন্তঃসত্ত্বা হওয়া ঠেকাতে প্রচারে জোর দিয়েছে বলাগড় ব্লক প্রশাসন। প্রয়োজনে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বোঝানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। নানা দৃষ্টান্ত দিয়ে মেয়েদের নিজের পায়ে দাঁড়ানোর কথা বলছেন প্রশাসনের আধিকারিকেরা। সম্প্রতি গুপ্তিপাড়ায় এ নিয়ে পাড়া-বৈঠক করেছিলেন বিডিও সুপর্ণা বিশ্বাস। মঙ্গলবার কর্মসূচি হল শ্রীপুর-বলাগড় পঞ্চায়েতের শ্রীপুর রাধারানি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ে।
প্রশাসন সূত্রের খবর, অষ্টম থেকে দশম শ্রেণির শ’দুয়েক ছাত্রী আলোচনায় ছিল। তাদের মধ্যে কন্যাশ্রী ক্লাবের ছাত্রীরাও ছিল। সমস্যা বোঝার জন্য বিডিও তাদের সঙ্গে খোলামেলা ভাবে আলোচনা করেন। বিয়ে নিয়ে তাদের কী ধারণা, নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কী ভাবছে— এ সব বিষয়ে কথা হয়। সাবালিকা হওয়ার আগে বিয়ে করলে মানসিক এবং শারীরিক কী সমস্যা হতে পারে— এ সব নিয়ে আলোকপাত করেন প্রশাসনিক আধিকারিকেরা। পর্যাপ্ত পড়াশোনা করলে যে স্বনির্ভর হওয়ার রাস্তা উজ্জ্বল হয় এবং তাতে আখেরে মেয়েদেরই লাভ, তা নিয়েও বোঝানো হয়। ঋতুস্রাবের সময়ে পরিচ্ছন্নতা নিয়েও কথা হয়েছে। বিদ্যালয়ের টিচার ইন চার্জ অম্বা সাহা মুখোপাধ্যায়-সহ অন্য শিক্ষিকারা ছিলেন। শুরুতে বক্তৃতা করেন অবর বিদ্যালয় পরিদর্শক (বলাগড়) গৌরব চক্রবর্তী।
জানা গিয়েছে, আর্থ-সামাজিক দিক থেকে পিছিয়ে থাকা নানা জায়গা থেকে মেয়েরা এই বিদ্যালয়ে পড়তে আসে। এমন কয়েকটি জায়গায় কম বয়সে মেয়েদের বিয়ে দেওয়ার চল এখনও রয়ে গিয়েছে। এই সব জায়গায় গিয়ে কিশোরী এবং তাদের মায়েদের নিয়ে পাড়া-বৈঠক করা হবে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। এক আধিকারিকের কথায়, ‘‘বিভিন্ন স্কুলে এবং এলাকায় ঘুরে সচেতনতা কর্মসূচি লাগাতার চালিয়ে যাওয়া হবে। নাবালিকা বিয়ে আটকাতে স্কুল, রাস্তার মোড়, বিভিন্ন এলাকায় পথনাটিকা করা হবে।’’ পুলিশ, স্কুলশিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী ও শিশুকল্যাণ দফতর, পঞ্চায়েত সমিতি, সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েতকে সঙ্গে নিয়েই প্রচার চলবে।
হুগলিতে নাবালিকাদের ফুঁসলিয়ে নিয়ে যাওয়া বা বিয়ের অভিযোগ বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন জাতীয় মহিলা কমিশন। এ ব্যাপারে সম্প্রতি হুগলিতে পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন কমিশনের সদস্য অর্চনা মজুমদার। এই পরিস্থিতিতে মেয়েদের জন্য বলাগড় ব্লক প্রশাসনের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন শিক্ষা শিবির ও বিভিন্ন মহলের মানুষজন।
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)